তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সিরিয়াস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আগ্রহী এবং বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক

2026-10-06T14:55:35+06:00
2026-10-06T14:55:35+06:00
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সিরিয়াস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম   (ভিজিট : ০)

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আগ্রহী এবং বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা এই পরিকল্পনাটা করতে চাই কিনা। তো আমরা করতে চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় একটি পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি নিয়ে নতুন করে কিছু কাজ করতে হচ্ছে।

পরিকল্পনার আগের ধারণা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে প্রাথমিকভাবে নেওয়া পরিকল্পনায় মূলত নদীশাসনের বিষয়টি ছিল। তিস্তা এলাকায় বর্ষাকালে ব্যাপক নদীভাঙন হয় এবং কোথাও কোথাও নদীর প্রস্থ ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, সেখানকার প্রপোজাল ছিল এটাকে খনন করে, পাড়টাকে শক্ত করে নদী ভাঙন রোধ করা এবং ল্যান্ড রিক্লেইম করা। আমরা যদি এটাকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আশেপাশে প্রচুর ভূমি, যেটা বর্ষার সময় ডুবে যায় বা ভেঙে যায়, সেটাও আমরা পেতে পারি।

তবে এখন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় পানি সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে কিন্তু আমরা ওয়াটার রিটেইন করার চেষ্টা করছি। বর্ষার পানি জমিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, যাতে শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা হলেও ব্যবহার করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, তিস্তার কাজটা কঠিন, কারণ হচ্ছে তিস্তা অনেক খরস্রোতা, অনেক দ্রুত পানি নেমে যায়। তারপরও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা একটি পরিকল্পনা করতে পারবেন।

এখন তিস্তা পরিকল্পনায় নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, সরকার এই প্রচেষ্টা করার জন্য খুবই আন্তরিক।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রকল্পের অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। চীন, বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোনো দেশের অর্থায়ন হবে কিনা, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ফান্ডিং কীভাবে হবে, সেটা ওপেন অ্যান্ডেড। আমি এটুকু নিশ্চিত করছি, বাংলাদেশ তার স্বার্থের জন্য, স্বার্থের পক্ষে যায় এমন সিদ্ধান্তই নেবে।

তিনি আরও বলেন, কোন উৎস থেকে অর্থ নিলে বাংলাদেশের জন্য সুবিধা হবে অথবা বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে করলে কী সুবিধা হবে তা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা একটি স্বাধীন সার্বভৌম সরকার, যে সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ