প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০২ এএম (ভিজিট : ১০)

লিওনেল মেসির বিদায়ের দিনে পর্তুগাল জাতীয় দল ছাড়ার নেপথ্যের কাহিনী প্রকাশ্যে এনেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এক বিবৃতিতে সরাসরি কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে ‘কথা না রাখার’ অভিযোগ তুললেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
প্রায় দুই হাজার শব্দের দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার ক্ষোভের কারণও যথেষ্ট গুরুতর।
রোনালদোর অভিযোগ, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে জেসাসের সঙ্গে তার একটি গোপন পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে না খেললেও পর্তুগালেই থেকে যাওয়ার কথা ছিল না তার।
অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থরা যখন সফরে যাবে, তখন তিনি নিজে দেশে থেকে যাবেন—এমন কোনো ভুল বার্তা তৈরি করতে চাননি রোনালদো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। জেসাস তাকে নরওয়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে নামানোর কথা জানান।
এই কিংবদন্তি ফুটবলারের দাবি, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে তিনি নিয়মমাফিক ওয়ার্ম-আপও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি। কোচের কথায় পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি প্রস্তুত হয়েছিলেন, অথচ সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। এখান থেকেই কোচের ওপর তার ‘বিশ্বাসের ভিত নড়ে যায়’ বলে জানিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
এরপরও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বটে। রোনালদোর দাবি, জেসাসের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ডেনমার্ক ম্যাচের আগের সাংবাদিক বৈঠকে কোচ পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করবেন এবং স্বীকার করবেন যে, রোনালদো নিজে থেকে খেলার জন্য কোনো জোর দেননি। কিন্তু সেই সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য তাদের আগের কথাবার্তার সঙ্গে মিল ছিল না।
বরং কোচের আচরণে একধরনের ‘আগ্রাসন’ দেখেছিলেন তিনি। তার মতে, সেটাই ছিল কোচের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় বার কথা না রাখার ঘটনা।
এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেন রোনা তিনি। তবে নিজের এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন তিনি।
সতীর্থ ও দেশের কোটি কোটি সমর্থকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, রাগ বা অভিমানের বশে শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া তার একদম উচিত হয়নি। এমনকি ফেডারেশন যদি তাকে কোনো শাস্তি দেয়, তিনিও তা মাথা পেতে নেবেন। অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্ব আরও অনেক বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন রোনালদো।
তবে এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি লুকিয়ে রয়েছে অন্য জায়গায়। এই আল নাসর তারকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পর্তুগালের হয়ে খেলার দরজা তার জন্য এখনই বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশের হয়ে মাঠে নেমে জেতার খিদে তার আগের মতোই অটুট রয়েছে। ফলে কোচের সঙ্গে যতই সংঘাত বাড়ুক না কেন, দেশের জার্সিতে তার অধ্যায় যে এখনই শেষ হচ্ছে না, সেই বার্তাই তিনি দিয়ে রাখলেন।
সবমিলিয়ে, এই বিস্ফোরক বক্তব্যের সময়টাই যেন পুরো ঘটনাটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। একদিকে যেদিন মেসির বিদায়ে আবেগ, স্মৃতি আর অশ্রুতে সিক্ত হয়েছে বিশ্ব ফুটবল, ঠিক সেই দিনেই রোনালদো এই অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।
এক মেগা তারকার বিদায়বেলায় যখন বিষাদের সুর, অন্য মেগা তারকার কণ্ঠে তখন রাগ, অভিমান আর হিসাব-নিকাশের কড়া সুর। বিশ্ব ফুটবলের দুই মহারথীর শেষ অধ্যায় যেন লেখা হচ্ছে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রনাট্যে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই