এলপিজি-সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট, সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে এলপিজি ও সয়াবিন তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলে

2026-10-04T11:09:51+06:00
2026-10-04T11:09:51+06:00
রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

এলপিজি-সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট, সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৯ এএম   (ভিজিট : ০)

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে এলপিজি ও সয়াবিন তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ। একই সঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (০৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে এলপিজি ও সয়াবিন তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধির অপচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ এ ধরনের সংকট সৃষ্টি এবং এর মাধ্যমে ভোক্তাদের জিম্মি করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি আজ আকাশছোঁয়া। প্রতি কেজি তরকারির দাম গড়ে প্রায় ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। মাছ-মাংসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এর মধ্যে এলপিজি গ্যাস ও সয়াবিন তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই। চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি এবং খাদ্যতালিকার অপরিহার্য পণ্য সয়াবিন তেলের বাজারে সংকট তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিবৃতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এতে বলা হয়, বাজারে সংকটের খবর প্রকাশ্যে আসার পরও কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর দৃশ্যমান তৎপরতা কেন দেখা যাচ্ছে না, তা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ বলছে, বাজারে প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ সংকট থাকলে এর কারণ জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। আর অসাধু ব্যবসায়ী বা কোনো চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

শুধু বাজার পরিদর্শন, জরিমানা কিংবা সাময়িক অভিযান পরিচালনা করে দায়িত্ব শেষ না করে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ শুধু জরিমানা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ, মূল্য কারসাজি শনাক্ত করা এবং ভোক্তাকে ন্যায্য মূল্যে পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, এলপিজি ও সয়াবিন তেলের বর্তমান সংকটের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে জনগণের সামনে প্রকাশ করা, কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি, অতিরিক্ত মুনাফা ও মূল্য কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বাজার তদারকি জোরদার করা।

এ ছাড়া এলপিজি ও সয়াবিন তেলের সরবরাহ চেইনের কোথায় সংকট বা কারসাজি হচ্ছে তা চিহ্নিত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযান আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সমন্বিত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের ভাষ্য, সংকট তৈরি হওয়ার পর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সম্ভাব্য মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকটের আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাজারে কোনো পণ্য সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে বাধ্য করা হলে তা শুধু ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়, নাগরিকদের অধিকার ও জীবনযাত্রার ওপরও সরাসরি আঘাত।

এ অবস্থায় সরকারকে দ্রুত কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার কোনো সিন্ডিকেট, মজুতদার বা অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি হতে পারে না। জনগণের স্বার্থে বাজার নিয়ন্ত্রণে এনে ভোক্তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ