মিষ্টির বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা পেলে চার্জশিট হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট

2026-10-01T16:56:57+06:00
2026-10-01T17:08:18+06:00
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিষ্টির বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা পেলে চার্জশিট হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম  আপডেট: ০১.১০.২০২৬ ৫:০৮ পিএম  (ভিজিট : ১৩)

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন কি না এবং এরপরের প্রক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা মাননীয় স্পিকার বলতে পারবেন। এটা আমার এখতিয়ারে নেই। এটা মাননীয় স্পিকারের সংরক্ষিত বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা হচ্ছে—যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে। আর দলীয় ব্যবস্থা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, যা আইনের বাইরের বিষয়। আর আইনি ব্যবস্থা হচ্ছে—যদি চার্জশিট হয়, তবে তাকে আদালতের এখতিয়ারে যেতে হবে এবং আইনের আওতায় আসতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তার আগ পর্যন্ত একজন মাননীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু বলা সঠিক হবে না।’

মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, আমি জানি না। এটা মাননীয় স্পিকার বলতে পারবেন। দলীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে একটু ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ করছি।’


মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ও কয়েকজনকে আটকের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হকারমুক্ত করা নাগরিকদের দাবি। তবে হকারদের বেকার করতে সরকার চায় না। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হলিডে মার্কেট করার চেষ্টা করছি। কিন্তু যত্রতত্র বসে যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা দুর্ঘটনার কারণ এবং এতে জনগণকে আমরা স্বস্তি দিতে পারছি না।’

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, হকাররা যখন ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে রাখেন, তখন সাধারণ নাগরিকদেরও অধিকার রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু হকারদেরকে প্রোভাইড করার জন্য, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করি; কিন্তু সড়ক বন্ধ করে তো নয়।’

তিনি বলেন, এটি সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রম। সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন এবং পুলিশ তাদের সহায়তা করে। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার পাশাপাশি হকাররা যাতে বেকার না হন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

‘হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা আজকেই করতে পারব এমন নয়। তবে আমরা কয়েকটি জায়গায় চেষ্টা করেছি,’ বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের যাতায়াতের স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। উচ্ছেদ অভিযান কাউকে বেকার করার জন্য নয়, নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্যই পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সংযোগ নেই।


সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে এখনো কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনটি সংশোধনের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে এবং অপেক্ষা না করে, সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, সঠিক তথ্য না জেনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করাটা অবশ্যই একটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।’

সমূহ ক্ষতি, অস্থিরতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভবের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন অপতথ্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এখনো আইনটা সংশোধন হয়নি, আমরা এটাকে এখনই আমলে নিতে পারব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই গণ্য করছে। আলাদা করে কোনো বার্তা দেওয়ার বিষয় নেই। যেখানে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেখানেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগ গ্রহণ করছে, মামলা দায়ের হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, গত ছয় থেকে সাত মাসে এমন কোনো ঘটনা দেখানো যাবে না, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেনি।

‘হয়তো ১২ ঘণ্টায় পারেনি, ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টায় পেরেছে। সাত দিনের ভেতরেও চার্জশিট হয়েছে এমন নজির আছে। ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সমাপ্ত হয়েছে এমন নজির আপনাদের চোখের সামনে আছে,’ বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে কোনো মেসেজ দেওয়ার বিষয় নেই। আমরা যেকোনো রকমের অপরাধ সংঘটিত যাতে না হতে পারে, সেরকম সতর্কতামূলক প্রিভেন্টিভ মেজারস নিচ্ছি এবং অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিচ্ছি।’

কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ত্রুটি থাকলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সেটা তুলে ধরবেন, আমরা সেগুলো অ্যাড্রেস করব।’








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ