অর্ধশতকে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, সুবর্ণজয়ন্তীতে আইসিবি

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

অর্থনীতি

পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ অর্থনীতিতে ৫০ বছর পূর্ণ করছে রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার

2026-09-30T13:24:43+06:00
2026-09-30T13:24:43+06:00
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্ধশতকে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, সুবর্ণজয়ন্তীতে আইসিবি
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ পিএম   (ভিজিট : ১৩)

পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ অর্থনীতিতে ৫০ বছর পূর্ণ করছে রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির সুবর্ণজয়ন্তী। ১৯৭৬ সালের এই দিনে যাত্রা শুরু করে সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর, শিল্প ও ব্যবসায় মূলধনের জোগান এবং পুঁজিবাজারের বিকাশে ভূমিকা রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আইসিবির প্রতিষ্ঠা। সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনীতির পরিবর্তিত প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।

আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বিভিন্ন স্কিম ও মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে পরোক্ষ বিনিয়োগ প্রায় ২৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এসব কার্যক্রমে ২৩৮টি প্রতিষ্ঠান সহায়তা পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০টি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কার্যক্রমে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইসিবি।

প্রতিষ্ঠানটি ব্রিজ ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসায় অর্থায়ন করেছে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের চাহিদা ও জোগান তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সরবরাহ করেছে। ১৯৭৭ সালে আইসিবি বিনিয়োগ স্কিম ও মার্জিন ঋণ কার্যক্রম চালু করে। ১৯৮০ সালে চালু করে দেশের প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড। পরে ইউনিট ফান্ডসহ বিভিন্ন স্কিমের মাধ্যমে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়।

আইসিবির আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ইক্যুইটি অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ফান্ড। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ তহবিল থেকে কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ১ হাজার ৩৯টি প্রকল্পে ১ হাজার ৬২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫১ হাজার ৮০৬টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বাজারের মন্দা, উচ্চ সুদে অর্থায়ন, তারল্যসংকট, সম্পদের মূল্যহ্রাস, প্রভিশন ঘাটতি এবং মেয়াদি সম্পদ ও দায় ব্যবস্থাপনার অসামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠানটির ওপর চাপ তৈরি করেছে। সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যে আইসিবিকে ১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

সামনের দিনের জন্য বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল, ইটিএফ, সুকুক, করপোরেট বন্ড, এসআইপি/সিআইপি, রিট (আরইআইটি) ও অবকাঠামো অর্থায়নের মতো নতুন ক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও সুশাসনে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। এতে আইসিবি আরও আধুনিক, বহুমুখী ও টেকসই প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারবে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ