প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম (ভিজিট : ১০)

সংগৃহীত ছবি
বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমান টিকিট থাকার পরও প্রাপ্তবয়স্ক তিন নারী যাত্রীকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় রুল জারির পাশাপাশি পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার অতিরিক্ত আইজিপিকে আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই তিন নারীকে বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিন নারীর করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন।
রুলে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি, ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিচালক, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ইমিগ্রেশনে দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। তাদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় কেবল অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুই।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, রিফা তামান্না, সোহানি ইসলাম সমাপ্তি ও নাজনীন পরস্পরের বান্ধবী। তারা তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আদালতের বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা নেই। গত ৮ আগস্ট নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের আটকে দেয়।
রিটকারীদের অভিযোগ, ইমিগ্রেশনে তাদের বিদেশযাত্রার কারণসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তারা কেন অবিবাহিত এবং বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সম্মতি রয়েছে কি না—এ ধরনের প্রশ্নও করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাদের ইমিগ্রেশন পার হতে দেওয়া হয়নি। তবে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণও তাদের জানানো হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ইমিগ্রেশনে আটকে দেওয়ার কারণে তিন নারীর বিমান টিকিট, বুকিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত ৩১ আগস্ট পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার অতিরিক্ত আইজিপির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়।
তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। সেখান থেকেও কোনো জবাব না পাওয়ার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিটটি করা হয়।
রিটে নাগরিকদের অবাধ চলাফেরা ও সমতার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো নারীকে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধু বৈবাহিক অবস্থা কিংবা অভিভাবকের সম্মতির বিষয়কে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানি না করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের আবেদন জানানো হয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ