প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ পিএম (ভিজিট : ৮)

বক্তব্য দিচ্ছেন মৎস্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। এই অবস্থানকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
মঙ্গলবা (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনামাছ অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্যবিজ্ঞান ভবনের প্রফেসর মোহাম্মদ শফি অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফিসারিজ সেক্টরের পরিধি অনেক বড় এবং এ খাতে কর্মক্ষেত্রও অনেক বিস্তৃত। একসময় মানুষ এই সেক্টরকে এতটা গুরুত্ব দিত না। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, মানুষ এর গুরুত্ব তত বেশি অনুধাবন করছে এবং এর পরিধি সম্পর্কেও জানতে পারছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাত অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে সক্ষম। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি মৎস্য খাতকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং মৎস্যসম্পদ দিয়ে কীভাবে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করা যায়, সে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মানুষকে মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় এই মৎস্য পক্ষ শুরু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
দেশের নদ-নদীর নাব্যতা ও দূষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের অনেক নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়ে গেছে। নদীগুলোকে কীভাবে দূষণমুক্ত করা যায় এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ যদি গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণে সক্ষম হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে এটি বিশাল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে মৎস্য খাতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মক্ষেত্র ও জীবন গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এ খাতে নিজেদের এগিয়ে নিতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে মৎস্য খাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, মৎস্য খাত সম্পর্কে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে এর সম্ভাবনা ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে হবে। ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে মৎস্য শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করার জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদা হক। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওয়ায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই