প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ এএম আপডেট: ২৭.০৯.২০২৬ ৯:৫৮ এএম (ভিজিট : ৬)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরে নিতে ভারত সরকারের তৎপরতার মধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেডিফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ১৭ সেপ্টেম্বর দোভাল ঢাকায় এসেছিলেন। তবে ঢাকা বা নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে দোভালের ওই সফরের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশ আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় নির্ধারণের চেষ্টা করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে আগস্টে একটি সম্ভাব্য সফর চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হয়নি। নতুন করে সফরের তারিখ ঠিক করার উদ্যোগে গতি আসতে পারে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের দায়িত্ব গ্রহণের পর।
তবে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তার সঙ্গে বড় প্রশ্ন হয়ে আছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু। ঢাকার কাছে বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নয়াদিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের পাশাপাশি হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থানও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
আগস্টের সফর শেষ মুহূর্তে আটকে যায়
তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নয়াদিল্লি তার ভারত সফরের জন্য আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর তারেককে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
আগস্টে সেই সফরের জন্য সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছিল, ২১ আগস্টকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ঘটনায় তারেকের ভারত সফরের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৫ আগস্ট ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তি। ওই দিন দিল্লি থেকে এক অডিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান ও পরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান। এ ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন জানায়, তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট দিল্লিতে হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয় এবং হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামির প্রত্যর্পণের অনুরোধ দ্রুত বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
ব্রিকস সম্মেলনেও যাননি তারেক রহমান
আগস্টের দ্বিপক্ষীয় সফর না হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরেও তারেক রহমানকে ভারত সফরের আরেকটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ তখন বিমসটেকের চেয়ার হওয়ায় ভারত তাকে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে তারেক রহমান সেই সম্মেলনেও অংশ নেননি। ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এখনো ভারত সফর হয়নি।
এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আগস্টে তারেকের সঙ্গে বৈঠকে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উত্থাপিত হয়েছিল বলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে যা জানা গেছে
এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। রেডিফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোভাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রায় দিনের তিন-চতুর্থাংশ সময় ঢাকায় ছিলেন ও তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের ভিত্তি তৈরির কাজের অংশ হিসেবে তিনি ঢাকা সফর করেন। প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের তারিখ তখনো চূড়ান্ত হয়নি।
রেডিফের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে সীমান্ত ও আন্তসীমান্ত চলাচল, বাণিজ্য, পানি বণ্টন, জ্বালানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। তবে দোভালের সফর নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বা ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে তার সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য এখনো মূলত সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর।
এর আগে, এপ্রিলে দোভালের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানের বৈঠক হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি ছিল ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের যোগাযোগগুলোর একটি। ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার বিষয় উঠে আসে।
বিজ্ঞাপন
নতুন হাইকমিশনার, নতুন সমীকরণ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের আগে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব সিয়ামকে ভারতে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে নয়াদিল্লি এরই মধ্যে সম্মতি দিয়েছে। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
এর আগে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে সিয়াম দিল্লিতে দায়িত্ব নিতে পারেন। ফলে তার দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের সফরের প্রস্তুতিতে নতুন গতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। ডেইলি সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচির কারণে সফরের জন্য সময়ের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এখনো সফরের তারিখ নিয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থাৎ নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা থাকলেও সেটিকে এখনই নিশ্চিত সফরসূচি বলা যাচ্ছে না। - সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, রেডিফ
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই