মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের তাগিদ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মৎস্য

2026-09-24T16:17:57+06:00
2026-09-24T16:17:57+06:00
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের তাগিদ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম   (ভিজিট : ০)

মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মৎস্য খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্যসম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাদের ওপর সোলার প্যানেল স্থাপন এবং সোলার ইরিগেশন বা সৌর সেচ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য খাসজমি বরাদ্দ এবং ব্যাটারি স্টোরেজ উন্নয়নের কাজ চলছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সরকারগুলোও কাজ শুরু করেছে। মৎস্য খাতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়েও সরকার কাজ করছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। মৎস্য খাতকেও এই লক্ষ্যমাত্রার অংশীদার করার সুযোগ রয়েছে।

মৎস্য খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, হ্যাচারিতে সৌরচালিত পানি সঞ্চালন ও এয়ারেটর, পুকুর ও ঘেরে সৌর প্যানেল, বরফকল ও হিমাগারে সৌরবিদ্যুৎ এবং মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে সৌর ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ছাড়া জেলেপাড়ায় সৌর মিনি-গ্রিড স্থাপন করে আলো, মোবাইল চার্জিং, জাল তৈরির কাজ এবং ঘাটে নিরাপত্তার আলো নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

মীর মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প হিসেবেও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে ৯১৮ দশমিক ৪ একর খালি জমিতে ৪৪২ থেকে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে সরকার।

একই মডেল পায়রা, পটুয়াখালী ও তালতলীতেও প্রয়োগ করে ‘কয়লা থেকে নবায়নযোগ্য’ জ্বালানিতে রূপান্তরের একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।

প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর মতো সোলার এনার্জি কর্পোরেশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান, সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ইকবাল ফারুক, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সল আহমেদ, সচেতন সংস্থার সভাপতি সাকিলা পারভীন, সুশীলনের ডেপুটি টিম লিডার আবু নওশের আলী সুমন এবং তরুণ জলবায়ু যোদ্ধা ইশতিয়াক উদ্দিন অর্ক প্রমুখ।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ