প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩০ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২৬ ৪:৫২ পিএম (ভিজিট : ১২)

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে নজিরবিহীন সংহতি দেখা যাচ্ছে। সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর ওপর হোয়াইট হাউজের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর এই সংহতি প্রকাশ পায়।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো। একই সময়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদপ্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সংগঠন।
এর প্রভাব দেখা গেছে ট্রাম্পের সংবাদ কাভারেজেও। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে ট্রাম্পের ছবি ও ভিডিওর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে তুলনামূলক কম।
এদিন ট্রাম্পের সংবাদ পুরোপুরি বর্জন করেনি কোনো সংবাদমাধ্যম। তবে তার ছবি ও ভিডিও প্রচারে এক ধরনের নীরব সমন্বয় দেখা গেছে।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রেট বেয়ার বলেন, মঙ্গলবার জাতিসংঘে ট্রাম্পের বেশ কিছু কর্মসূচি থাকার কথা। এসব কর্মসূচির কিছু ছবি ও ভিডিও প্রচার করা হবে। তবে টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সংহতি দেখিয়ে নিয়মিত প্রেস পুলে বিকল্প হিসেবে সিএনএনের জায়গা নিচ্ছে না।
টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমগুলোর নিয়মিত প্রেস পুলে সিএনএনের পরিবর্তে অন্য কোনো নেটওয়ার্ককে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছিল হোয়াইট হাউজ।
স্থানীয় টেলিভিশন স্টেশনগুলোর মালিক গ্রে টিভির সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে।
আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারাও সিএনএনের জায়গা নিতে রাজি হয়নি।
ছবি প্রকাশেও সংহতি
ট্রাম্পের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সফরের ছবি তোলার দায়িত্বে থাকা আলোকচিত্রীদের মধ্যেও সংহতি দেখা যায়। সোমবার তারা ট্রাম্পের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট একে বিভিন্ন সংবাদকক্ষের আলোকচিত্রীদের একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসও হোয়াইট হাউজের স্টিল ফটোগ্রাফি পুল থেকে তোলা কোনো ছবি প্রকাশ বা বিতরণ না করার কথা জানায়।
পত্রিকাটি জানায়, অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি সমর্থন জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এপির ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সোমবার প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচির কোনো ছবি প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া পাবলিক রেডিও নেটওয়ার্ক এনপিআর সাময়িকভাবে ট্রাম্পের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অডিও প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
হোয়াইট হাউজের সংবাদকর্মীদের কাজের জায়গায় একটি পোস্টারও দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আই স্ট্যান্ড উইথ এপি, সিএনএন, এমএস নাও, পলিটিকো।’
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবাদ
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সংবাদপ্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়।
পেন্টাগন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টস, নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য আটলান্টিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমর্থন জানায়।
নিউইয়র্কার, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের প্রধান জোডি গিন্সবার্গের উদ্যোগে প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে সই করে।
চিঠিতে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গিন্সবার্গ বলেন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা মুক্ত সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো সরকার কোন সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম তাদের বিষয়ে প্রতিবেদন করবে, তা নির্ধারণ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিযোগিতার বাইরে এক ইস্যুতে ঐক্য
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো সাধারণত সংবাদ, এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন, পাঠক ও সাংবাদিক নিয়োগ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় তাদের মধ্যে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর যৌথ মামলার খবরও সোমবার অন্যান্য বড় সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। হোয়াইট হাউজের সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যম একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ