সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা হিসেবে শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করেছেন এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আজকের এই পরিস্থিতির জন্য আমার শ্যালক ওবায়দুর দায়ী।
এই রাস্তায় সে নিয়ে আসছে। টাকার লোভে জড়িয়ে আত্মাহত্যায় প্ররোচিত করেছে।’
সোমবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল মর্গে মেয়ের লাশের জন্য বসেছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি।
মেয়েকে সদ্য হারিয়ে বাবা কখনো কাঁদছেন, কখনো শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।
মেয়ে হারানোর শোকে তিনি বলেন, ‘আমি চাই সঠিক তদন্ত, ন্যায় বিচারটা যে পাই, প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’
মেয়ের সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা কম হতো, তবে এমপির সঙ্গে সবসময় কথা হতো, পাশে থাকতো; কথা বলতে গেলে ও কথা বলতো না।’
এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুরকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, “মেয়ে সব সময় বলত, ‘আমি বাইরে মুখ দেখাব কিভাবে।
সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি ওই পরিণতি ভোগ করতেছি’। মেয়ে এসব বলতো আর আমার পা জড়ায় কানতো।”
তিনি আরো বলেন, ওবায়দুলকে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না, তাহলে এই ঘটনাও ঘটতো না।’
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিজের আপন খালু হিসেবে পরিচয় দেন মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ।
বাবার খালুর সঙ্গে মেয়ে কী করে সম্পর্কে জড়াল, এমন প্রশ্নের উত্তরে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। কিন্তু ওর মামার জন্য এভাবে সব শেষ হয়ে গেল।’
চিরকুট বলে যে কাগজগুলো উদ্ধার হয়েছে সেগুলো মরিয়মের লেখা কি না—জানতে চাইলে মাসুম বলেন, ‘এগুলো ওর লেখা কি না, সেটা আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।’
প্রসঙ্গত, দুই স্ত্রীকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাস করছিলেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রবিবার সন্ধ্যায় ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০৩ নম্বর ফ্লাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটেই ছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম। পরবর্তীতে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। এ সময় মরিয়ম খাতুনের হাতে লেখা বেশ কয়েকটি চিঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা রিমান্ড আবেদন করব। তবে কতদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে তা সিনিয়র স্যারদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হবে।’
এদিকে সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করলে তা জাতীয় সংসদের স্পিকারকে অবহিত করতে হয়। তা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ২০ জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
ডেল্টা টাইমস/ সিআর/ এফএএইচ