এলডিসি উত্তরণের পর সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী আইপিআর ব্যবস্থা জরুরি

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

অর্থনীতি

এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর)

2026-09-21T13:17:52+06:00
2026-09-21T13:17:52+06:00
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

এলডিসি উত্তরণের পর সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী আইপিআর ব্যবস্থা জরুরি
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৭ পিএম   (ভিজিট : ০)

এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর) ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে শুধু উৎপাদন ও পণ্যের পরিমাণের ওপর নির্ভর না করে উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মূল্য সংযোজনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য আইপিআরের কার্যকর সুরক্ষা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলের ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিফট ইন দ্য পোস্ট-এলডিসি ইরা : স্ট্র্যাটেজিস ফর আইপিআর ইস্যুজ অব কি ইন্ডাস্ট্রিজ’ শীর্ষক এক ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে (এফজিডি) তিনি এসব কথা বলেন।

সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট (এসএসজিপি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এই ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম জাহাঙ্গীর। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে দৃশ্যমান সম্পদের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী আইপিআর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ফার্মাসিউটিক্যালস, তৈরি পোশাকসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে ভবিষ্যতে আরও বেশি উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মূল্য সংযোজনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এর জন্য আইপিআরের কার্যকর সুরক্ষা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আইপিআর ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দীর্ঘসূত্রতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, পাইরেসি ও নকল পণ্য প্রতিরোধে সীমিত সক্ষমতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইপিআর বিষয়ে সচেতনতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে আধুনিক ও কার্যকর ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অফিস অব বাংলাদেশ (আইপিওবি)’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক আইপি ট্রাইব্যুনাল বা আইপি বেঞ্চ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন তাসকীন আহমেদ। একই সঙ্গে কাস্টমস ও পুলিশের জন্য বিশেষায়িত আইপিআর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্টস, ডিজাইনস অ্যান্ড ট্রেডমার্কসের (ডিপিডিটি) নিবন্ধন ও পরীক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল করে ব্যাকলগ কমানোর পরামর্শ দেন ডিসিসিআই সভাপতি। পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেকনোলজির মতো বিশেষায়িত খাতের জন্য দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক নিয়োগের কথাও বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস (টিটিও) গঠন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তাসকীন আহমেদ।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে আইপিআর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় নিয়ে অর্থায়নের ক্ষেত্রেও এটিকে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কপিরাইট আইন ও সংশ্লিষ্ট সাইবার বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর ‘নোটিশ অ্যান্ড টেকডাউন’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেন ডিসিসিআই সভাপতি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ফ্যাকাল্টি অব ল এবং ডব্লিউআইপিও একাডেমির সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম।

সভায় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফায়েজ আহমেদ, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রইসুল কবির, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইপিএবি) পরিচালক জেনারেল এমদাদুল আজিজুর রহমান, বিজিএমইএর সেক্রেটারি জেনারেল মেজর জেনারেল ড. মো. শাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ