প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১০ পিএম (ভিজিট : ০)

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে মহাসড়কটি জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় ৫৬ শতাংশ এবং ভৌত কাজের অগ্রগতি ২৭ শতাংশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় মহাসড়কের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছয় লেন প্রকল্পটি অনেক আগে নেওয়া হলেও সাড়ে চার বছরেও এর অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘গত ছয় মাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় ৫৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ হয়ে যাবে। ভৌত কাজের অগ্রগতিও প্রায় ২৭ শতাংশ।’
প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে পাঁচটির কাজের অগ্রগতি অসন্তোষজনক বলে জানান মন্ত্রী। বাকি আটটি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা বা বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো অতিক্রম করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে দরপত্র অনুযায়ী মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন শুধু একটি সড়ক অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
নির্মাণকাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের কিছু অংশে সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্বীকার করেন সড়কমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জনগণের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের নির্মাণকাজে গুণগতমান নিশ্চিত করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেন তিনি। যেসব অংশে কাজের গতি কম রয়েছে, সেসব অংশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে গতি বাড়ানোর নির্দেশনাও দেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
দিনব্যাপী সফরে সড়ক পরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাঁচপুর-নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ অংশ পরিদর্শন করেন। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে ঘুরে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।