প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম (ভিজিট : ৫)

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এর শীর্ষ ৫০ উদ্ভাবনের তালিকায় স্থান পেয়েছে ড্যাফোডিল এআই-এর ছয়টি প্রকল্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), রোবোটিক্স ও অটোমেশন প্রযুক্তিনির্ভর এসব উদ্ভাবন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক অবকাঠামো ও স্মার্ট অটোমেশনের মতো বাস্তব সমস্যা সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরছে।
দেশের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তুলে ধরতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ ড্যাফোডিল গ্রুপ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমন্বিত এআই, গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা নিয়ে অংশ নিয়েছে ড্যাফোডিল এআই।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মেলার উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি ড্যাফোডিলের স্টল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে প্রদর্শিত বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের সিইও ড. মো. নূরুজ্জামান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ ৫০ উদ্ভাবনের তালিকায় স্থান পাওয়া ড্যাফোডিল এআই-এর ছয়টি প্রকল্প হলো—দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী যান ‘ডুয়াল-মোড এফআর ভেহিকল’, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প ‘হোমপিটাল নেক্সাস’, ডেস্ক কম্প্যানিয়ন রোবট ‘পিকোবট’, এআই-চালিত সড়ক ক্ষতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ‘প্যাভ অ্যানালিটিক্স’, ‘আইওটি স্মার্ট অটোমেশন’ এবং মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক প্রযুক্তি ‘দ্য আরবর ভয়েস ফর মাদার্স’। এআই ও আইওটিসহ আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এসব উদ্ভাবন বাস্তব সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরছে।
প্রদর্শনীতে শুধু নির্বাচিত ছয়টি উদ্ভাবন নয়, শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগও তুলে ধরছে ড্যাফোডিল এআই। এআই প্রফেসর, স্টুডেন্ট৩৬০, অ্যালামনাই৩৬০, পারফেক্ট এইচআর, লিডারশিপওএস এবং রেজিস্ট্রারওএসের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মী ব্যবস্থাপনায় এআই কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তার বাস্তব প্রয়োগ দেখানো হচ্ছে।
এর পাশাপাশি রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), কম্পিউটার ভিশন, অটোমেশন এবং সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার সমন্বিত বিভিন্ন প্রযুক্তিও প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে কানেক্টেড এডুকেশন, ওয়ার্কফোর্স ইন্টেলিজেন্স, ইনস্টিটিউশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি এবং ফিজিক্যাল এআইয়ের সমন্বয়ে শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ, কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরছে ড্যাফোডিল এআই।
ড্যাফোডিল এআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলায় প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর বাইরেও এআই, রোবোটিক্স, অটোমেশন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে আরও ৪০ থেকে ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্পের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, শিল্প, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে ড্যাফোডিল এআই-এর অংশগ্রহণ এবং আমাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোর স্বীকৃতি গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ ড্যাফোডিল এআই-এর অংশগ্রহণ দেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি সমাধান তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্প, শিক্ষা ও গবেষণার মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ গবেষক ও উদ্ভাবকদের দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করবে।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্যোক্তা ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা ড্যাফোডিল এআই-এর স্টলে বিভিন্ন এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বাস্তবমুখী সমাধান সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে পারবেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি