দশ বছরেরও বেশি সময় পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেই ইউরোপের মঞ্চে জয়ের স্বাদ পেলেন জোসে মরিনহো। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত তার সাবেক ক্লাব ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমে জয় দিয়ে শুরু করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
মঙ্গলবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের উত্তাপ। প্রথমার্ধে ইন্টারের দুটি ভুলকে কাজে লাগিয়েই দুই গোলের লিড নেয় রিয়াল।
১৪তম মিনিটে কার্টিস জোন্সের ভুল পাসে চাপে পড়ে যান ইয়ান বিসেক। সেই সুযোগে ব্রাহিম দিয়াজ বলটি পৌঁছে দেন কিলিয়ান এমবাপের কাছে। ফরাসি ফরোয়ার্ডও সুযোগ নষ্ট করেননি। দ্রুত শট নিয়ে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন তিনি।
এরপর আবারও নিজেদের ভুলের খেসারত দেয় ইন্টার। বল পায়ে নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করছিলেন গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজ। তাকে চাপ দিতে ছুটে যাওয়া ফেদেরিকো ভালভার্দে বল কেড়ে নিয়ে সরাসরি শট নেন। বল জালে জড়িয়ে রিয়ালের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
প্রথমার্ধেই তৃতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল রিয়াল। তবে এবার ইন্টারকে বাঁচান মার্তিনেজ। জুড বেলিংহামের দারুণ একটি সুযোগ ঠেকানোর পর এমবাপের শটও রুখে দেন তিনি। ফলে ২-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকেরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে ইন্টার। রিয়ালের রক্ষণে চাপও বাড়তে থাকে। এ সময় আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন বেলিংহাম। ব্রাহিম দিয়াজের ক্রস নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কিছুটা সময় নষ্ট করায় তার শট ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ।
অন্য প্রান্তে ইন্টারকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ না দেওয়ার বড় কৃতিত্ব রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ারও। আলেসান্দ্রো বাস্তোনির নিচু শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।
তবে ৭৭তম মিনিটে শেষ পর্যন্ত রিয়ালের রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় ইন্টার। লাউতারো মার্তিনেজের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন কার্লোস অগুস্তো।
গোলটি হওয়ার পর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সমতা ফেরাতে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ইন্টার। রিয়ালের রক্ষণ তখন ব্যস্ত সময় পার করে। হেনরিখ মিখিতারিয়ানের ডিফ্লেক্টেড শটও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দারুণ এক ঐতিহাসিক যোগসূত্রও। ২০১০ সালে এই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই ইন্টার মিলানকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন মরিনহো। সেটিই ছিল ইন্টার ও মরিনহো সবশেষ ইউরোপসেরা হওয়ার মুহূর্ত।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই