নীলফামারীতে হাজারো শিক্ষার্থীর প্রধান বাধা আবাসন সংকট

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

শিক্ষা

আবাসন সংকটে পড়েছে নীলফামারী শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি কলেজে শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসন সুবিধা অনেক কম। ফলে হাজার

2026-09-06T14:50:27+06:00
2026-09-06T14:50:27+06:00
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

নীলফামারীতে হাজারো শিক্ষার্থীর প্রধান বাধা আবাসন সংকট
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ পিএম   (ভিজিট : ৩)

আবাসন সংকটে পড়েছে নীলফামারী শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি কলেজে শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসন সুবিধা অনেক কম। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন। 

আবার মেসগুলোর অবকাঠামো যথাযথ না হাওয়ায় কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও একটি বড় আশঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিভাবকদের মাঝে।

নীলফামারী জেলা শহরে নীলফামারী সরকারি কলেজ, নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজ, ছমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলফামারী নার্সিং ইনস্টিটিউট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা আসেন উচ্চ মাধ্যমিকসহ উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য। 

এদের মধ্যে নীলফামারী সরকারি কলেজের মহিলা শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একশ’ শয্যার করে দুটি হোস্টেল। ছাত্রদের জন্য একটি ছাত্রাবাস থাকলেও সেটিতেও শ্যাওলা পড়েছে। নীলফামারী সরকারি কলেজে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। এর মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী আছেন ১৫ হাজার এবং প্রাইভেট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় তিন হাজার।

নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় তিন হাজার। এখানে ছাত্রীদের জন্য ২৪৪ শয্যাবিশিষ্ট হোস্টেল রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়া নীলফামারী নার্সিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩০০ জন। তবে ছাত্রীদের জন্য ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট হোস্টেল থাকলেও ছাত্রদের জন্য তেমন কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই।

নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সারাবান তুহুরা বলেন, ‘মেয়েদের হলে পর্যাপ্ত সিটের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে মেসে থাকতে হচ্ছে। দূর থেকে আসতে হয়, তাই সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হতে পারি না। এছাড়া বাইরে মেসগুলোতে মেয়েদের জন্য তেমন কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। তার ওপর অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে থাকতে হচ্ছে।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘মেসে থাকতে হলে বিদ্যুৎ বিল, বুয়ার বিল এবং সিট ভাড়াসহ নানা খরচ বহন করতে হয়। বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু কলেজের ছাত্রাবাসে সিট পাওয়া গেলে এসব অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না।’

নীলফামারী মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন সংকট রয়েছে। এই কলেজে ছাত্রাবাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাইরের ছাত্রাবাসে থাকতে হয়। এতে আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হয় তাদের। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে। ফলে প্রতিদিন ক্লাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এ কলেজে অধ্যয়ন করছে।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই কলেজে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি ছাত্রীনিবাস থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল; সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ছাত্রদের জন্য একটি ছাত্রাবাস থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ