দেশে হামের পরিস্থিতি ফের উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৫৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সোমবার
( ৩১ আগস্ট )স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন আক্রান্তদের একটি বড় অংশ শিশু। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে সারাদেশে বিপুলসংখ্যক রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পাশাপাশি হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় এ রোগের সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কতজনের শরীরে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং কতজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হবে।
এর আগে ৩০ আগস্টের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। ওই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া যায়।
হামের সংক্রমণ ঠেকাতে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দেওয়া এ রোগের সাধারণ উপসর্গ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ায় নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব জটিলতা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেল্টা টাইমস/আরএফ