সংসদে উত্তাল বাগযুদ্ধ, উদ্বিগ্ন স্পিকারের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ যেন হঠাৎই পরিণত হলো উত্তপ্ত এক রণাঙ্গনে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অধিবেশন চলাকালে এক পক্ষের

2026-08-27T17:49:06+06:00
2026-08-27T17:49:06+06:00
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সংসদে উত্তাল বাগযুদ্ধ, উদ্বিগ্ন স্পিকারের হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম   (ভিজিট : ০)

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ যেন হঠাৎই পরিণত হলো উত্তপ্ত এক রণাঙ্গনে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অধিবেশন চলাকালে এক পক্ষের প্রশ্ন, অন্য পক্ষের কটাক্ষ আর তুমুল হইচইয়ে কার্যত থমকে যায় সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) নিজেই প্রকাশ করলেন গভীর উদ্বেগ— এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।


স্পিকার সরাসরি বলেন, ‘আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আজকে একে অপরকে কথা বলার সুযোগকে যেভাবে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখেছি, এটা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ না।’ তার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট হতাশা— এত কষ্টে অর্জিত গণতন্ত্র যেন এভাবে হাতছাড়া না হয়ে যায়, সে আশঙ্কাই যেন ফুটে উঠল তার বক্তব্যে। তিনি সতর্ক করে দেন, ‘এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন, তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না।’


উত্তেজনার সূত্রপাত যেখানে

ঘটনার শুরু কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রশ্ন ঘিরে। সে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যই যেন আগুনে ঘি ঢালে। তিনি বলে বসেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।’


মুহূর্তেই বদলে যায় অধিবেশনের চিত্র। প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বিরোধী বেঞ্চ থেকে। পাল্টা জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও ছাড়েননি— ‘যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।’ এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সংসদে নেমে আসে হট্টগোল, উঠে আসে মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জোরালো দাবি।


বিরোধীদলীয় নেতার তীব্র প্রতিক্রিয়া

উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে যখন মাইক্রোফোনে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্যে যদি এভাবে কমেন্টস করা হয়, তবে আমার বক্তব্য দেওয়ার দরকার নাই।’ থামেননি সেখানেই— সরাসরি প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আচরণ নিয়ে: ‘উনি নিজেকে কী মনে করেন? আমরা তার ছাত্র হিসেবে এখানে নাই। উনি শিক্ষক হলে ইউনিভার্সিটি খুলুন, সেখানে বক্তব্য দিতে পারবেন।’ সবচেয়ে ধারালো মন্তব্যটি আসে এরপরই— ‘এটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।’


স্পিকারের শান্ত করার চেষ্টা

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও ধৈর্য হারাননি স্পিকার। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা আপনাদের রয়েছে,’ তবে সেইসঙ্গে ইঙ্গিত করেন কক্ষের বিশৃঙ্খলার দিকেও— ‘বিরোধীদলীয় নেতা যখন দাঁড়ালো, উনার পেছনে সবাই দাঁড়িয়ে গেল। কাউকে বসানোই যায় না।’ তবু আশাবাদী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সংসদ কথা বলার জায়গা। কথার মাধ্যমে একে অপরের যুক্তিকে খণ্ডন করা যাবে... শব্দ করে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না।’


শেষে চার দশকের সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘বিগত ৪০ বছর ধরে এই জাতীয় সংসদে আছি। অতীতে অনেক খারাপ রেকর্ড আছে। আমরা বলতে পারি, অতীতের তুলনায় আমরা ভালো সংসদ পেয়েছি।’ উভয় পক্ষের প্রতি তার আহ্বান ছিল একটাই— ধৈর্য ধরুন।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ