বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগের ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বর্তমান সরকারের জন্য বড় চাপ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিগত সময়ে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছিল। তবে এর মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়নি। অর্থ ও বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে স্বৈরাচার সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নিয়েছে। ফলে এই বকেয়া পরিশোধের বড় দায় বর্তমান সরকারের ওপর পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের সরকার হিসেবে আমরা বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে।’ পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য ও পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ভবন থেকে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, ডাকবাংলো, অডিটরিয়াম ও সিটি করপোরেশনের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হবে। এসব প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ও সমন্বয় করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হলে সরকারের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
অনুষ্ঠানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মাহফুজের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। তার পক্ষ থেকে মাহফুজের উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ খরচ বহন এবং কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় ২৩৩ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই