বাংলাদেশ-চীনের বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, বই ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক

2026-08-26T11:02:09+06:00
2026-08-26T11:11:13+06:00
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলাদেশ-চীনের বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০২ এএম  আপডেট: ২৬.০৮.২০২৬ ১১:১১ এএম  (ভিজিট : ২)

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, বই ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বহুমাত্রিক করতে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশেষ করে চীনা ভাষায় দক্ষতা দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। 
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীল আগারগাঁওয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলামের ভ্যালিডেশন কর্মশালা’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসমাইল জবিউল্লাহ এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর করতে চীনা ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, চীনা ভাষা শেখার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে। একইসঙ্গে যৌথভাবে অধিক মূল্য সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য চীন-বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। চীনা ভাষা তাই শুধু একটি ভাষা নয়; এটি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সেতু। 

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়েছে। এই অংশীদারত্ব যত বিস্তৃত হবে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ও পেশাজীবীদের চীনা ভাষায় যোগাযোগের সক্ষমতাও তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দক্ষতায় পরিণত হবে। 

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ঢাকার একজন শিক্ষার্থী কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীও অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী-পেশাজীবী কিংবা দক্ষ কর্মী সবার জন্য নিজের সুবিধাজনক সময়ে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জন চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একসঙ্গে চীনা ভাষায় দক্ষ তরুণদের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কাজের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাধ্যমিক শিক্ষায় তৃতীয় ভাষা চালুর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। আগামী কয়েক দশকের প্রয়োজন ও সম্ভাবনা বিবেচনায় চীনা ভাষা তৃতীয় ভাষা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।  বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো শিক্ষা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে। 

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে চীনা ভাষায় দক্ষতা বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মজীবীরা চীনা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। এর ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুফল কাজে লাগানোর সুযোগও আরও সম্প্রসারিত হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্প, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চীনা ভাষায় দক্ষ জনবলের চাহিদাও বাড়ছে। চীনা ভাষাকে শুধু ভাষাগত দক্ষতা হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান, পেশাগত যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, চীনা ভাষার ওপর কম্পিটেন্সি-বেজড কারিকুলাম প্রণয়নের মাধ্যমে এনএসডিএ শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করছে। এর মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএফএ) সভাপতি অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের (আইএসসি) চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন। 

কর্মশালায় এনএসডিএ-এর সদস্য ও পরিচালক, সংশ্লিষ্ট পরামর্শক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, চীনা ভাষা, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ