সিলেটে নৌকাবাইচ নিয়ে আপত্তির অবসান, ২৮ আগস্ট হবে আয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম আপডেট: ২৩.০৮.২০২৬ ১১:৫২ এএম (ভিজিট : ১৩)

নদীপাড়ের ভাঙন ও ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয়দের একাংশের আপত্তির মুখে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট নির্ধারিত সময়েই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা। তৌহিদী জনতা বা কারও বাধায় নৌকাবাইচ বন্ধ হবে না। স্থানীয়রা বসে বিষয়টি সমাধান করেছেন। আগামী ২৮ তারিখ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। নৌকাবাইচ আয়োজক কমিটি বিষয়টি দেখভাল করছে। ফসলি জমি ও নদীপাড়ের ভাঙন নিয়ে স্থানীয় কিছু মানুষের আপত্তির কারণে বিষয়টি এত দূর গড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও সুনাই নদীতে বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এইবার নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে একটি পক্ষ অবস্থান নেয়। গত বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে এ ব্যানারে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নৌকাবাইচের কারণে নদীপাড়ের ভাঙন এবং ধানের চারা ও অন্যান্য ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে তারা নৌকাবাইচ আয়োজনের বিরোধিতা করেন।
এ ব্যাপারে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির আমিনুল বলেন, পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। কিছু লোক ভুল তথ্য দিয়ে কৃষকদের উসকানি দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌকাবাইচের প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে ভুল তথ্য উপস্থাপন করছে।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, ফেসবুকে নৌকাবাইচের পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। আগামী ২৮ তারিখ নৌকাবাইচ হবে।’
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা নদীপাড়ের ভাঙন ও ধানের চারা এবং অন্যান্য ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার কারণে এ বিষয়ে আপত্তি জানান। তৌহিদী জনতার নামে ব্যানার ছড়িয়ে একটি পক্ষ বিষয়টি ভাইরাল করেছে।
এদিকে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে প্রশাসনের একটি বিশেষ দল লাউতা ইউনিয়ন পরিদর্শন করে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে।
স্থানীয়দের আপত্তি ও নৌকাবাইচ আয়োজকদের বক্তব্যের মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে বিষয়টি সমাধান করা হয়। ফলে আগামী ২৮ আগস্ট সুনাই নদীতে নির্ধারিত সময়েই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই