প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৪ এএম (ভিজিট : ১)

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন তার জামাতা বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ফাহাম আবদুস সালাম। একই সঙ্গে ফাহাম তাকে ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্টে তিনি তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ফাহাম পোস্টে মির্জা ফখরুলকে ২২ বছর ধরে চেনেন জানিয়ে তার প্রশংসা করে বলেন, আমি আমার জীবনে তার মতো দায়িত্বশীল মানুষ কেবল আরেকজনকে দেখেছেন, তিনি আমাদের ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যার। দায়িত্বশীলতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তিনি এমন একজন বড়ভাই যিনি ৭ ভাইবোনের জন্য ৬টা চকলেট পেলে নিজের ৬ ভাইবোনকে ৬টা চকলেট দিয়ে নিজে একটাও না নিয়ে খুব খুশি থাকবেন। ৬ ভাইবোনের জন্য তিনি যে দায়িত্বের সঙ্গে সঠিক কাজটা খুব দ্রুত করে ফেললেন, এটাই তার সন্তুষ্টির মূল জায়গা। এই রোল থেকে তিনি কখনোই বের হতে পারেন না। আবহমান বাংলাদেশের পরিবারের বড় ছেলে, যার কাঁধে অনেক দায়িত্ব।
ফাহাম আরও বলেন, নিজেকে কাজে লাগানোর মানসিকতা মির্জা ফখরুলের মধ্যে অত্যন্ত প্রবল। যে কোনো পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে কাজে লাগাতে চান। এমনকি ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গেলেও ঘর ঝাড়ু দেওয়া শুরু করেন। কারণ তিনি বসে থাকতে পারেন না। তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এই গুণ ও ভদ্র আচরণ বলেও মন্তব্য করেন ফাহাম। পোস্টে ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একান্ত আলাপের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
ফাহাম জানান, ওই সময় মির্জা ফখরুল তাকে বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের কাজ হয়ে গেছে। ম্যাডামকে বের করে আনছি। আর ইলেকশন হলে দেশটাও গণতন্ত্রে উঠে যাবে। আই অ্যাম স্যাটিসফায়েড।’
খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারাকে মির্জা ফখরুল নিজের ব্যর্থতা হিসেবে নিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন ফাহাম। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে ম্যাডামের অবস্থান কোনো পলিটিকাল লিডারের মতো না। নন-পলিটিকাল পরিবারের কাউকে বোঝানো কঠিন যে ম্যাডামের মর্তবাটা ঠিক কেমন। সেদিন আমার মনে হয়েছিল যে ম্যাডাম খুবই সৌভাগ্যবান একজন নেতা। বাংলাদেশে কোনো পলিটিক্যাল লিডারের মির্জা আলমগীরের মতো সাহাবি পাওয়া কঠিন যে নিজের ভালো ও খারাপ- দুই সময়েই লিডারকে প্রথমে মনে করে এবং লিডারের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছে। আমি নিশ্চিত না যে তারেক রহমান এ রকম এক সাহাবি পাবেন। কেন যেন শিক্ষিত লোকেরা শুধুই বেঈমানি ও নিজের স্বার্থ দেখে।
বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের অনেকে মির্জা ফখরুলকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলেন উল্লেখ করে ফাহাম লিখেছেন, এর মধ্যে সত্যতা রয়েছে। তার মতে, মির্জা ফখরুল বিএনপির আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান। তার দৃষ্টিভঙ্গি সবার পছন্দ নাও হতে পারে, তবে তিনি যা বলেন, তা বিশ্বাস করেন এবং সেভাবেই কাজ করার চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা প্রসঙ্গে ফাহাম বলেন, দেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ বা উচ্চমাত্রার গণতন্ত্র চর্চা করা সম্ভব নয়। তবে মির্জা ফখরুল সারাজীবন গণতন্ত্রের গাড়িতে ঠেলা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সুযোগ পেলে তিনি সবার আগে দাঁড়াবেন বলেও মন্তব্য করেন ফাহাম।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে নিজের জন্য একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় বলে উল্লেখ করেন ফাহাম। তিনি বলেন, ওনার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা আমার জন্য একই সাথে আনন্দের ও হতাশার। আনন্দের এ জন্য যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য এমন একজন মানুষ দরকার যাকে জাতি অভিভাবক হিসাবে দেখতে রাজি। আমার মনে হয় সঠিক মানুষটাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। আর হতাশার এ কারণে যে বিএনপিতে এ রকম একজন মানুষের খুব দরকার যে নিজের আগে দলের ও দেশের স্বার্থ দেখতে পারেন। এমন একজন মানুষের রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন। তা ছাড়া বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে দম বন্ধ হয়ে আসার কথা।
মির্জা ফখরুলকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও অভিনন্দন জানিয়েছেন দাবি করে ফাহাম বলেন, তার জীবদ্দশায় অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা এমন ‘জেনুইন বাইপার্টিজান’ সমর্থন পেয়েছেন কিনা, তা তার মনে পড়ে না। তিনি মির্জা ফখরুলকে ‘মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ’ নন এবং বিএনপিতে তার কোনো গ্রুপিং নেই বলেও উল্লেখ করেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই