প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪১ পিএম (ভিজিট : ৩)

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্য নিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ। নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা, নিবন্ধনসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’।
২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই শুমারি। নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গতকালের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের নৌযান খাতের প্রকৃত সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে নিবন্ধিত নৌযানের পাশাপাশি অনিবন্ধিত ও বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সঠিক সংখ্যা জানা না থাকায় নৌনিরাপত্তা, নিবন্ধন, নৌপথ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন শুমারির মাধ্যমে এই ঘাটতি অনেকটাই দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুমারিতে দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। নৌযানের সংখ্যা ও ধরন ছাড়াও মালিকানা, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে নৌযান নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা, নৌনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নৌপথ উন্নয়ন এবং নৌপরিবহন খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণে এই ডেটাবেজ ব্যবহৃত হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতাকে এই কার্যক্রমের সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। কারণ, নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে নৌযান ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
নৌপথে দুর্ঘটনা ও অনিয়মের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রায়ই নৌযানের ফিটনেস, নিবন্ধন, মালিকানা ও পরিচালনা-সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসে। সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্য একটি সমন্বিত ডেটাবেজে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য নৌযান শনাক্ত ও নজরদারি করা সহজ হবে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করবেন বিবিএসের নিয়োজিত কর্মীরা। শুমারির আওতায় থাকা নৌযান মালিক, চালক, শ্রমিক ও অন্যান্য অংশীজনদের প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতাকে এই কার্যক্রমের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে সরকার। কারণ নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
কোন এলাকায় কতসংখ্যক নৌযান চলাচল করে, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে ওই এলাকার নৌপথ, ঘাট ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনাও বাস্তবভিত্তিক করা সম্ভব হবে।
নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, পরিদর্শন, নিরাপত্তা ও নৌপথ ব্যবস্থাপনায় তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের প্রত্যাশা, ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’-এর মাধ্যমে দেশের নৌপরিবহন খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া যাবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নৌপরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই