প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১২ পিএম (ভিজিট : ৪)

সংগৃহীত ছবি
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা দূর করা এবং ভিসা বাতিলের কারণে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের দ্রুত আমিরাতে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন আরব আমিরাত প্রবাসী এনআরবি সিআইপি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রবাসী ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল ও এআইভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং, ড্রাই ফুড প্রসেসিং ও প্যাকেজিং, ই-রেন্টাল সেবা, সোলার প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। তাদের মতে, সরকার যদি দ্রুত অনুমোদন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, জমি বা লিজ সুবিধা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং কার্যকর ওয়ান-স্টপ সেবা নিশ্চিত করে, তাহলে এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, তারা ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে বৈঠকেরও কর্মসূচি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভিসা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রায় ১২ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ মালিক বা স্পন্সর পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ থাকায় অনেক কর্মী কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
বাংলাদেশ ও আমিরাত সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এই সুযোগ পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা বাতিলের কারণে হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী দেশে আটকে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারা। এসব প্রবাসীর অনেকের চাকরি, ব্যবসা এবং পরিবার আমিরাতে রয়েছে। আটকে পড়া প্রবাসীদের তালিকা তৈরি করে আমিরাত সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের দ্রুত পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
প্রবাসীদের সেবা আরো কার্যকর করতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রবাসীবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন চালু, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রবাসী সহায়তা সেল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা জটিলতা নিরসন, বিদেশগামী কর্মীদের ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, সবার জন্য প্রবাসী কার্ড, স্থানীয় আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, মৃত প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী বিমান ভাড়া, বিনিয়োগ সুরক্ষা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রতিনিধি দলের পক্ষে মোহাম্মদ রুবেল সিআইপি বলেন, “প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্সের উৎস নন; তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন সহযোগী।” তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভিসা জটিলতা ও দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।