প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১২ পিএম (ভিজিট : ০)

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। ফাইল ছবি
সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপাত্ত সংগ্রহে ত্রুটির হার সর্বোচ্চ তিন শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা কোনো বৈজ্ঞানিক জরিপের মানদণ্ডে ত্রুটি হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো নয়। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দ্রুততার সঙ্গে নীতিমালা প্রণয়ন, পাইলটিং এলাকা নির্বাচন এবং ঢাকাসহ দেশের ১৫টি অঞ্চলে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৪১ লাখ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় উদ্বোধন করবেন এবং কুমিল্লা স্টেডিয়ামে সুবিধাভোগীদের হাতে সরাসরি কার্ড তুলে দেবেন।
সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জানান, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত নারী ও শিশুদের অনুদান ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বার্ষিক বাজেট ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা চলতি বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ থেকে সাড়ে ৪৫ লাখের মধ্যে। জানুয়ারি থেকে তাঁদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে এবং আগে ১০৩টি সেবাকেন্দ্র থাকলেও এখন প্রতিটি উপজেলায় ও মোবাইল ভেহিকলের মাধ্যমে সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে নিবন্ধিত সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দুস্থ ও বিধবা ভাতার পরিমাণ ও সংখ্যা—উভয়ই বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বার্ন ইনস্টিটিউটে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমেছে কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী সরাসরি হ্রাসের দাবি না করে বলেন, তথ্যপ্রবাহ অবাধ হওয়ায় আগে যেসব ঘটনা প্রকাশ পেত না, এখন সেগুলো সহজে সামনে আসছে। তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগী পরিবারকে চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি, যা ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্ধারিত কারিকুলাম অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।
চা-শ্রমিক ও পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও কর্মসূচি অব্যাহত থাকার কথা জানান মন্ত্রী, পাশাপাশি শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশে সারা দেশে শিশু একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
নিজের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নিজের কাজের নম্বর নিজে দেওয়া সমীচীন নয়, এই মূল্যায়ন দেশের মানুষ ও সরকারের সংশ্লিষ্টরাই করবেন।