দেশে কোনো মব কালচার সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘মব কালচার যখনই হোক, কালচার অনভিপ্রেত। আশা করি, মব কালচার হবে না, কখনোই হওয়া উচিত নয়।’
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সরকারের অবস্থানের কথা জানান দেন।
মব কালচার বন্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে এ উপদেষ্টা বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে মব কালচার হয়েছে এমন কোনো স্পষ্ট উদাহরণ আমার কাছে নেই। আমি বলছি যে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে যেভাবে মব হয়েছিল সেই ধরনের মব কালচার নেই। তবে আমরা আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি, এই ধরনের কোনো মব কালচার টলারেট করা হবে না। দেশ চলবে দেশের আইন অনুযায়ী এবং সেটাকে আমরা ইনফোরস করব, ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘মব কালচারের মাত্রাটা আগের থেকে অনেক কমে গেছে। এটা অনেকটা পলিটিক্যাল সাপোর্ট থেকে এই মব কালচার হয়েছে। একটা প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক প্রভাব থাকে।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলি যে আইনের শাসন যত বাড়তে থাকবে তত এই মব কালচার কমে যাবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে আইনের শাসনের প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন, সেখানে কোনো বিরোধী মতের কারণে বা বিরোধী রাজনৈতিক নেতা আজকে হয়রানির মুখে পড়ছেন না। সুতরাং এই আইনের শাসনের আবহাওয়াটা যতক্ষণ পর্যন্ত বিরাজমান থাকবে, মব কালচার তত কমে যাবে।’
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়।
সভায় সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম এবং সাফল্যগুলোর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেসসচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।