প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দিতে হবে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

2026-08-15T12:33:11+06:00
2026-08-15T12:33:11+06:00
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী
প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দিতে হবে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ০)

প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘ভবন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয় বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যেকোনো চিকিৎসার জন্য যেন প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সেজন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তুলছে।

চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে।

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব। আগামী অক্টোবর মাসেই খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে মোট পাঁচটি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল একযোগে চালু করতে সক্ষম হবে সরকার।

বিদেশমুখিতা বন্ধে পারস্পরিক আস্থা জরুরি

চিকিৎসায় প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিকতার ওপর জোর দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর উদ্বেগ ও কষ্ট লাঘবে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। 

চিকিৎসা পরিবেশ নির্বিঘ্ন করার একক দায় চিকিৎসকের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি। চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস না রাখেন, তবে যতই অবকাঠামোগত উন্নয়ন হোক না কেন— চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে ৫০০ শয্যার নতুন ‘নিউরোসায়েন্স-২’ ভবন চালুর ফলে স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা মেরুদণ্ডের জটিল স্নায়ুবিক রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়া স্রেফ কোনো স্লোগান নয়। সরকার দেশে এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না বা অর্থাভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ