মহাস্থানগড়ে নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা, আপিলের অনুমতি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম (ভিজিট : ৮)

সংগৃহীত ছবি
ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার সীমানার ভেতরে নতুন করে কোনো নির্মাণকাজ করা যাবে না। এ বিষয়ে আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) জারি করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সরকারের করা আপিলের অনুমতিও দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা সংরক্ষণে নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবির দায়ের করা জনস্বার্থের মামলায় ২০১২ সালে হাইকোর্ট একটি রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে আজ বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগে ওঠে। শুনানি শেষে আদালত মহাস্থানগড়ের নির্মাণকাজের বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেন এবং আপিলের অনুমতি দেন।’
আদালতে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘মহাস্থানগড়ে দর্শনার্থী ও আগত নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক স্থান এবং ওয়াশরুম নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। এ কারণে সংশ্লিষ্ট রায়ের কিছু অংশ সংশোধনের আবেদন জানানো হয়।’
মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২০১০ সালে। সে সময় মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে তৎকালীন মাজার কমিটির উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করে এইচআরপিবি।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেন এবং মহাস্থানগড়ের বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। পরে কমিটি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাটি সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে মহাস্থানগড়ের পূর্ব পাশে একটি মসজিদ নির্মাণের সুপারিশ করে।
কমিটির প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পর্যালোচনা করে ২০১২ সালে হাইকোর্ট মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে যেকোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে দীর্ঘদিন পর বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আসে। রোববার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নির্মাণকাজের বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পথ খুলে দেন।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ