প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২১ পিএম (ভিজিট : ১১)

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদফাইল ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ভাষ্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা হাতে পাওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়নি নির্বাচন কমিশন।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা চাওয়া হয়েছে। তবে তালিকাটি এখনো পাওয়া যায়নি। সেটি হাতে এলেই তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় ওই সময়সীমা অপরিবর্তিত থাকবে নাকি সংশোধন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর ভোট গ্রহণ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগে। এছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা ও মুদ্রণের জন্য আরও প্রায় দেড় মাস প্রয়োজন হয়। ফলে একটি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে মোটামুটি তিন মাস সময় লাগে। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো তথ্য ছাড়া সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
৫৮ দলের মধ্যে হিসাব জমা দিয়েছে ৩৮টি
রাজনৈতিক দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, আইন অনুযায়ী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোর অডিট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে শেষ দিন সরকারি ছুটি থাকায় সময় বাড়িয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।
তিনি বলেন, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় কার্যকরভাবে ৫৮টি দলের হিসাব জমা দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৮টি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আরও ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। আর আটটি দল কোনো ধরনের সাড়া দেয়নি। এসব দলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী নোটিশ জারি করা হবে বলে জানান ইসি সচিব।