প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ এএম (ভিজিট : ৯)

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি- সংগৃহীত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, গত দেড় দশকে স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও পরিকল্পনার অভাব, দুর্নীতি এবং সমন্বয়হীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। শত শত কোটি টাকার চিকিৎসাসরঞ্জাম কেনা হলেও সেগুলোর বড় একটি অংশ এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ১০ বছর আগে কেনা যন্ত্রের মোড়ক পর্যন্ত খোলা হয়নি। কোথাও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নেই। আবার কোথাও যন্ত্র থাকলেও প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট বা এক্স-রে প্লেটের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ভবন নির্মাণ বা নতুন মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের সংকট দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা। চিকিৎসক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের সমন্বিত টিম ছাড়া আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের প্রসঙ্গ তুলে ড. মুহিত বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। এই সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন, যেখানে হাসপাতালটির ধারণক্ষমতা মাত্র ২ হাজার ২০০ শয্যা। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে বেসিক সায়েন্স বিষয়ের শিক্ষকেরও তীব্র সংকট রয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা এখনো অপর্যাপ্ত। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, কোতোয়ালি আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসীম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই