ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার পাশাপাশি রোগীভেদে উপযোগী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জিনোম সিকোয়েন্সিং ও জেনোমিক্সভিত্তিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় জেনোমিক্সের ব্যবহার বাড়লে বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ জেনোমিক্স কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে এবং রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগিতায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক জেনোমিক্স সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
জেনোমিক্সভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে কোনো রোগের জিনগত কারণ শনাক্ত করা, একজন ব্যক্তির কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি তা নির্ধারণ করা এবং রোগীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন করা সম্ভব। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও বিরল জিনগত রোগ তুলনামূলক দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি নতুন ওষুধ ও চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় জিনোমিক্সকে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জেনোমিক্স কনসোর্টিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা এবং জেনোমিক্স ও স্টেম সেল বিশেষজ্ঞ ডা. সামরিন ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম এ হাই, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মার্ক ক্রিস্টিয়ানসেন এবং রাটগার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক দিয়েগো ম্যারিন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সিনহা ইবনে জামালী।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. জীনাত আরা।
অধ্যাপক এম এ হাই বলেন, ক্যান্সারসহ জটিল রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসায় জিনোম সিকোয়েন্সিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তি ও সেবার সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মার্ক ক্রিস্টিয়ানসেন বলেন, ক্লিনিক্যাল জেনোমিক্স বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। রোগ নির্ণয়, রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং রোগী ব্যবস্থাপনায় জেনোমিক্সভিত্তিক তথ্যের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
রাটগার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক দিয়েগো ম্যারিন বলেন, প্রিসিশন মেডিসিন, মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস ও প্রেডিকটিভ জেনোমিক্স রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাকে আরো কার্যকর এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তুলতে সক্ষম।
রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান বলেন, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করবো এ বিষয়ে আরো ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করার। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা সবসময় এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
সিনহা ইবনে জামালী বলেন, আধুনিক রোগ নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রসারে রেডিয়েন্ট ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক জেনোমিক্স সম্মেলনে অংশগ্রহণ সেই উদ্যোগেরই অংশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ জেনোমিক্স কনসোর্টিয়ামের এ উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ডা. সামরিন ইসলাম বলেন, দেশের জটিল রোগের উন্নত রোগনির্ণয় ও চিকিৎসায় জেনোমিক্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এজন্য চিকিৎসক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ওষুধ ও বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল জেনোমিক্স ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনের শেষ পর্বে জেনোমিক্সের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।