মানব পাচার দমনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট

2026-07-30T19:17:57+06:00
2026-07-30T19:17:57+06:00
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সেমিনারে রুহুল কবির রিজভী
মানব পাচার দমনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম   (ভিজিট : ৮)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সমাজে সাংস্কৃতিক চর্চা কমে যাওয়ায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ‘মানব পাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, মানব পাচার রোধে শুধু আইনের শাসন নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষারও প্রসার ঘটাতে হবে। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং প্রতারণা, শোষণ, সহিংসতা ও মানব পাচারের শিকার না হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এমপি বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি তথ্য-উপাত্তভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে দেশি-বিদেশি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।

সেমিনারের প্রধান বক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বাংলাদেশ ও বিশ্বে মানব পাচারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি আন্তদেশীয় মানব পাচারের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম এবং শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণকে মানব পাচারের অন্যতম রূপ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, একজন মানুষ পাচার হওয়া মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে হারানো নয়; তার জ্ঞান, দক্ষতা ও সংস্কৃতিকেও হারানো। তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানব পাচারবিরোধী সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধি, ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম), ‘কোটনেট’-এর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কথক বিশ্বাস জয়ের নেতৃত্বে মানব পাচারবিষয়ক গম্ভীরা গান পরিবেশন করেন। পরে শিল্পী এস এম রকিবুল হাসান বাঁশির সুরে মানব পাচারের শিকার মানুষের বেদনার চিত্র তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, এ বছরের বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Trapped Behind the Scam’ (প্রতারণার আড়ালের ফাঁদ)। অনলাইন প্রতারণার আড়ালে সংঘটিত মানব পাচার ও সাইবার দাসত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ