মাথায় বাঁধা রক্তমাখা পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন জুলাই যোদ্ধা আজিজুর

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

মাথায় গুলির ক্ষত। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন। জুলাই আন্দোলনের মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় মাথার রক্ত

2026-07-30T18:29:53+06:00
2026-07-30T18:53:56+06:00
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাথায় বাঁধা রক্তমাখা পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন জুলাই যোদ্ধা আজিজুর
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৯ পিএম  আপডেট: ৩০.০৭.২০২৬ ৬:৫৩ পিএম  (ভিজিট : ৯)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মাথায় গুলির ক্ষত। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন। জুলাই আন্দোলনের মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় মাথার রক্ত বন্ধ করতে যে জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন, সেই পতাকা রক্তে ভিজে গিয়েছিল। সেই রক্তমাখা পতাকা হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শেখ আজিজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। আজিজুরের ইচ্ছা ছিল ওই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়ার। আজ তিনি রক্তক্ষরণ ঠেকাতে মাথায় বাঁধা সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

সম্প্রতি আজিজুরকে নিয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সাক্ষাতের জন্য আজিজুরকে নিয়ে আসা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনেন। তার আহত হওয়ার ঘটনা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন এবং সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ চালানোর বিষয়সহ তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তার জীবনসংগ্রামের কথাগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দারুণভাবে ব্যথিত করে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন—এটিকে জীবনের স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।

আজিজুর বলেন, ‘এই পতাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল আমার। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

এত ত্যাগ ও অবদান থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল করার কারণে দীর্ঘ দুই বছরেও জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি এই যোদ্ধা। সংসার আর লেখাপড়ার খরচ চালাতে ধরতে হয়েছে সিএনজির স্টিয়ারিং। জীবনের দুটি বছর কেটেছে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি।

আহত অবস্থায় মাথার গুলির ক্ষত ঢাকতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন তিনি। রক্তে ভিজে যায় সেই পতাকা। তবু রাজপথ ছাড়েননি। ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান তিনি। তবুও ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি তার জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ