প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩১ পিএম (ভিজিট : ৮)

সংগৃহীত ছবি
গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, শিশুর অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের সামাজিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের একটি মৌলিক প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। অথচ বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার দুর্বলতা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় গৃহকর্মী শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় শিশুশ্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্লাটফর্মের (ক্লেপ) সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তফাদার।
এএসডি'র নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তব্য রাখেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান; আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি সৈয়দা মুনিরা সুলতানা; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম; এডুকো বাংলাদেশের চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন কর্মসূচির ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান; বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন; এএসডির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউকেএম ফারহানা সুলতানা এবং এএসডির কোঅর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমান প্রমুখ।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইন, শিশু আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, দণ্ডবিধিসহ অন্যান্য আইন ও নীতিমালা গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। শিশুশ্রম নিরসনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকাতেও গৃহকর্মীর কাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতির আলোকে গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পৃথক গৃহকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। সরকার এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সচিব মো. আব্দুর রহমান তফাদার বলেন, গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। গৃহকর্মী কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিতে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের কাজ চলছে। এই খাতে কর্মরত সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সবার সচেতনতা—জনগণ সচেতন হলেই এই উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সংলাপের মাধ্যমে গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে এম এ করিম বলেন, কাজে নিয়োজিত হয়ে শিশুরা তাদের আনন্দময় শৈশব হারিয়ে ফেলছে। গৃহকর্মীর কাজ এখনো শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০০৭ সালের পর গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলের প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু গৃহকর্মীর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।