প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম (ভিজিট : ০)

বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী তিন স্তরের কমিটির মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের আবেদন নিষ্পত্তি এবং আদেশ জারি করা হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (মাউশি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এ এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও কর্মস্থলভেদে বদলি ও পদায়নের আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য তিনটি পৃথক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে বদলি ও পদায়নের আবেদন সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলভিত্তিক কমিটি নিষ্পত্তি করবে। এ কমিটির সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং সহকারী পরিচালক (কলেজ)। দপ্তর ও সংস্থার পদ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলি ও পদায়নের আদেশ এ কমিটিই জারি করবে।
সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের আবেদন, ঢাকা মহানগর এবং বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পদ ব্যতীত, মাউশির মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি নিষ্পত্তি করবে।
অন্যদিকে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার সব পদে বদলি ও পদায়নের আবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত আদেশ দেবে।
বদলির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত থাকবে
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকসহ কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর চাকরি সম্পন্ন না করলে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতিতে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকবে।
এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরিজীবী হলে একজনের কর্মস্থল বা নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করা যাবে। অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে পদ শূন্য থাকলে পছন্দের স্থানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। দূরারোগ্য রোগ, পারিবারিক সমস্যা এবং নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্বও আবেদন বিবেচনায় গুরুত্ব পাবে।
তবে পিডিএস হালনাগাদ না থাকলে, আবেদন অসম্পূর্ণ হলে, বিভাগীয় মামলা বা তদন্তাধীন অভিযোগ থাকলে সেই আবেদন গ্রহণ করা হবে না। পাশাপাশি গত তিন বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন এ নীতিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ-সংক্রান্ত পূর্বে জারি করা সব নীতিমালা বাতিল বলে গণ্য হবে।