প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৫ এএম (ভিজিট : ৩)

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনব্যাপী সংঘাতের সময় মার্কিন বাহিনীর ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহেব্বি দাবি করেন, ইরানের হামলায় নজরদারি ও সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত মোট ১৭টি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে আটটি ছিল নতুন। এছাড়া একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত আটটি বিমানও ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত অবস্থায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তবে কোন ঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
মোহেব্বি আরও দাবি করেন, ইরানের হামলায় ৯টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ৫টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ৬টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, বিমান ও নৌবাহিনীর ৩টি নজরদারি রাডার, ৮টি গোয়েন্দা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, ৫টি ইলেকট্রনিক পজিশনিং সিস্টেম (ইপিএস) রাডার, আরও ৫টি দূরপাল্লার রাডার, ২টি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এবং একটি ট্যাকটিক্যাল রাডার কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র হ্যাঙ্গার, ১৭টি অস্ত্রের গুদাম, ১২টি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, ৩টি লজিস্টিকস কেন্দ্র, ৬টি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, ৪টি হিমার্স রকেট লঞ্চার, একটি জ্বালানি জেটি, একটি চালকবিহীন জলযান সংরক্ষণাগার, একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, ৪টি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, ৪টি হেলিকপ্টার এবং ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র গুদামও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তার দাবি।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও বলেন, সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর ইরানের পাল্টা অভিযানে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র যে হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তার দাবি অনুযায়ী, ইরান মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ৮টি স্থাপনায় হামলা চালায় এবং এর একটি স্থাপনায় থাকা ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়। আহত সেনার সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত নিহতের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে হতাহতের প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়।
মোহেব্বি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য, উপসাগরীয় কোনো দেশ বা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী অন্য যেকোনো দেশ ভবিষ্যতে তেহরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান পরিচালিত হয়েছে। তার মতে, লন্ডন যদি ভবিষ্যতেও ওয়াশিংটনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাজ্যও ইরানের সম্ভাব্য হামলার আওতায় আসতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে তেহরান কঠোর জবাব দেবে।
মোহেব্বির অভিযোগ, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসরায়েল ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এ অঞ্চলে সামরিকভাবে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, ইরান যদি আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ইসরায়েল অবগত রয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই