জাবি মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ 'উধাও', ডেপুটি রেজিস্ট্রার বরখাস্ত

জাবি প্রতিনিধি :

শিক্ষা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে প্রায় ৭৩ হাজার টাকার গরমিলের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

2026-07-23T19:56:23+06:00
2026-07-23T19:56:23+06:00
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

৭৩ হাজার টাকার গরমিল
জাবি মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ 'উধাও', ডেপুটি রেজিস্ট্রার বরখাস্ত
জাবি প্রতিনিধি :
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৯)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে প্রায় ৭৩ হাজার টাকার গরমিলের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এর আগে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল সেন্টারে পরিচালিত আকস্মিক মজুদ যাচাইয়ে বিভিন্ন ধরনের ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল ধরা পড়ে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১০১ টাকা। ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্যদের করা ওই অডিটে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ ওষুধের হিসাব না মেলায় বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

অডিটে দেখা যায়, অ্যালাট্রল, এজিথ্রোমাইসিন, ডমপেরিডোন, প্যারাসিটামল, ফ্যামোটিডিন, নাপাসহ বিভিন্ন ওষুধের মজুদ রেজিস্টারের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুদের বড় ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি গরমিল পাওয়া যায় অ্যালাট্রল ও ডমপেরিডোনে। ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্যরা স্টোরে সংরক্ষিত ওষুধের সঙ্গে রেজিস্টারের হিসাব মিলিয়ে এ অসঙ্গতি শনাক্ত করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে গরমিলের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং এতে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দায় নির্ধারণে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৫(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত এই তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুস ছাত্তার। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রেজিস্ট্রার অফিসের (কাউন্সিল শাখা) ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলাউদ্দিন মোল্লা। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি অফিস আদেশে জানানো হয়, তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১০(২) ধারা অনুযায়ী ২৩ জুলাই থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্তকালীন তিনি জীবিকা নির্বাহ (সাবসিস্টেন্স) ভাতা হিসেবে সর্বশেষ মূল বেতনের অর্ধেক এবং প্রযোজ্য মহার্ঘ্যসহ অন্যান্য অনুমোদিত ভাতা পাবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ওষুধের গরমিল প্রসঙ্গে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামাল বলেছিলেন, স্টোরের চাবি তাঁর কাছেই থাকে এবং ওষুধ তিনিই বিতরণ করেন। তবে কীভাবে এই ঘাটতি হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

অন্যদিকে মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান জানান, স্টোরের চাবি তাঁর কাছে থাকে না; ওষুধ সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব ডেপুটি রেজিস্ট্রারের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম এর আগে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ সংকটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। অডিটে গরমিল ধরা পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।



ডেল্টা টাইমস/সামিয়া তাসনীম স্বাতী/সিআর









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ