১০ ডলারে পিএইচডি, ঘোড়ার ভাগ্যে গাধার সনদ-রূপকথায় শিক্ষামন্ত্রীর কটাক্ষ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

শিক্ষা

‘বাংলাদেশে এত বেশি পিএইচডি হয়েছে, সেই পিএইচডিগুলো আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে’—এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল

2026-07-18T20:18:08+06:00
2026-07-18T20:44:04+06:00
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

১০ ডলারে পিএইচডি, ঘোড়ার ভাগ্যে গাধার সনদ-রূপকথায় শিক্ষামন্ত্রীর কটাক্ষ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম  আপডেট: ১৮.০৭.২০২৬ ৮:৪৪ পিএম  (ভিজিট : ১২)

‘বাংলাদেশে এত বেশি পিএইচডি হয়েছে, সেই পিএইচডিগুলো আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে’—এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। নওগাঁয় এক মতবিনিময় সভায় নিজেকে নিয়ে চলা ট্রল ও সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষার সনদ ব্যবস্থা নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। 

শনিবার (১৮ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষক—যাঁর নামের আগে ডক্টর উপাধি রয়েছে—তাঁকে ‘পরীক্ষা মিলন’ নামে অভিহিত করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ওই শিক্ষক বিনা পরীক্ষায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন কি না। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে প্রজেক্ট-ভিত্তিক পদ্ধতিতে লেখাপড়া হলেও পরীক্ষা ছাড়া সার্টিফিকেট অর্জনের কোনো সুযোগ নেই এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য।

দেশের অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারীর মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের কারণে দেশের পিএইচডি ডিগ্রিগুলো খতিয়ে দেখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি রূপক গল্প তুলে ধরেন—এক ব্যক্তি একটি সাইনবোর্ড দেখে জানতে পারেন যে সেখানে ১০ ডলারের বিনিময়ে পিএইচডি ডিগ্রি পাওয়া যায়। তিনি টাকা দিয়ে নিজের নামে একটি পিএইচডি সনদ নেন। পরে ভাবলেন, তার ঘোড়ার কারণেই তিনি সেখানে যেতে পেরেছেন, তাই ঘোড়াটিরও একটি পিএইচডি হওয়া উচিত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাকে জানায়, তারা ঘোড়াকে নয়, গাধাকে পিএইচডি দেয়। । এই গল্পের মাধ্যমে তিনি নিম্নমানের গবেষণা ও সনদ বাণিজ্যের প্রতি ইঙ্গিত করেন।

সামাজিক সচেতনতার নামে উসকানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে দেশের তরুণ প্রজন্মই তা প্রতিহত করবে।

সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ইতিবাচক বিষয়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। তাঁর দাবি, যাঁরা তাঁকে নিয়ে ট্রল করছেন, তাঁদের অধিকাংশই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন এবং ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়েই তাঁরা কাজ করছেন এবং যত সমালোচনা বা ট্রলই হোক না কেন, তা তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।











  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ