
প্রতীকী ছবি
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর আসন্ন নির্বাচন-২০২৬ স্থগিত করেছে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে বোর্ড এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।
জানা গেছে, প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে নির্বাচন বোর্ড গঠন, ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, আপিল বোর্ডের কার্যক্রমে বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ডের তদন্ত ও শুনানিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—মেয়াদোত্তীর্ণ প্রশাসকের মাধ্যমে নির্বাচন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভোটার তালিকায় ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সিকে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আপিল বোর্ডের কার্যক্রমে অনিয়ম।
সূত্র জানায়, প্রশাসকের আইনগত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। এছাড়া প্রাথমিক ভোটার তালিকায় ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ভুয়া ভোটারের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিদেরও ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুসরণ না করে বৈধ লাইসেন্সবিহীন কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সিকেও ভোটার তালিকায় রাখা হয়।
এছাড়া আপিল বোর্ডের শুনানিতে তিন সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও মাত্র দুই সদস্যের উপস্থিতিতে শুনানি সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রকাশিত রায়ের কপিতে তিন সদস্যের স্বাক্ষর দেখানো হয়। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডের নথিতে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করার অভিযোগও উঠেছে, যা তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রশাসক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বহীনতা ও যোগসাজশ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে শুরু থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের শুনানি শেষে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড মনে করে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আটাব নির্বাচন-২০২৬ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সাধারণ সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেক ভোটার।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটাব কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।