প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ এএম (ভিজিট : ৬)

টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের কারণে বান্দরবানের দুর্গম অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে দ্রুত যোগাযোগ সচল করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (১৭ ইসিবি) প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দুর্গম সড়কগুলোতে এই পুনরুদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রিঙ্কু দে বলেন, বান্দরবানে আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা ভারী বৃষ্টিপাত।
স্থানীয় ও সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণের ফলে বান্দরবান-থানচি, থানচি-আলীকদম এবং থানচি-রেমাক্রী-মদক-লিকড়ি সড়কের বিভিন্নস্থানে ভয়াবহ পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও গাছপালা সড়কের ওপর ধসে পড়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক যাতায়াত, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন থমকে দাঁড়িয়েছে, যা চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ১৭ ইসিবির সেনাসদস্যরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বৈরী আবহাওয়া ও অব্যাহত বৃষ্টির মধ্যেই আধুনিক প্রকৌশল সরঞ্জাম এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সড়ক থেকে মাটি ও পাথর সরানোর কাজ চলছে।
১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ লাঘব ও পাহাড়ি অঞ্চলের জীবনযাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকার কথাও তারা জানিয়েছেন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি কমতে শুরু করলেও গতকাল রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পৌরসভা, বিভিন্ন সংস্থা, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে। শুক্রবার (১০ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তিনি আগামীকাল রোববার বান্দরবান সফর করবেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই