আশ্রয়শিবিরে ১৫ রোহিঙ্গা নিহত, ইউএনএইচসিআরের শোক

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী

2026-07-09T20:32:31+06:00
2026-07-09T20:32:31+06:00
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আশ্রয়শিবিরে ১৫ রোহিঙ্গা নিহত, ইউএনএইচসিআরের শোক
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৯)

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ এই শরণার্থী শিবিরগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, নিরাপদ অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে ইউএনএইচসিআর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এক বিবৃতিতে বলেন, গত ৮ জুলাই মাদরাসার দেয়াল ধসে যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে, তাদের প্রতি ইউএনএইচসিআর গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে এ সপ্তাহের শুরুতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতিও আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, এই মর্মান্তিক প্রাণহানি আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শরণার্থী শিবিরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখনো ভূমিধস, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ নানা পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন।

রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই রাত থেকে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত টানা দুর্যোগে ১৫ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৮ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ১১৯ জন এবং সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৪ হাজার ৩০৭ জন।

এ সময়ে মোট ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনার মধ্যে ৯৫টি ভূমিধস, ১৫৬টি ঝড়ো হাওয়া এবং ২১টি আকস্মিক বন্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ২ হাজার ৮০৯টি আশ্রয় আংশিক এবং ১৩টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মানবিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সামনে থাকা অনেক ঝুঁকি যথাযথ পরিকল্পনা, সম্পদ ও টেকসই দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমের মাধ্যমে কমানো সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকটের কারণে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জমির অভাবে অতিরিক্ত জনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ঘনত্ব কমানো এবং আরো নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ঝুঁকি জরুরি পরিস্থিতিতে রূপ নেওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। কিন্তু অর্থায়ন ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে মানবিক সংস্থাগুলোকে প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

তিনি আরো বলেন, শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, জমি ও পরিকল্পনার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ইউএনএইচসিআর তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করার উদ্যোগও চলমান থাকবে।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ