
সংগৃহীত ছবি
শুরুতেই টার্গেট করা হলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিজের মেধা ও সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, অন্তত কাজ করার সুযোগ তাকে দেওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের বাজেট বাস্তবায়ন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই সরকারের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন আয়োজনের জন্য চলতি বছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।
নিজের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সন্তান ও প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি কেনা হয়েছে এবং এসব সম্পদের অর্থের উৎসও বৈধ। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তদন্ত করতে পারে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের সব তথ্য ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্পদের প্রকৃত চিত্র উপেক্ষা করে আংশিক তথ্য তুলে ধরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদকে হেয় প্রতিপন্ন করার আগে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। কারও বক্তব্যের আংশিক অংশ তুলে না ধরে পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশেরও আহ্বান জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে নয়, বরং তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন কর্মী হিসেবেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। কাজের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ চান তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ও তার পরিবার নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ক্ষমতায় আসার পরও তার পরিবারকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের কোনো সদস্য দায়িত্ব পেলে সেটিকে অযথা বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, কাউকে দুর্নীতিগ্রস্ত বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা জরুরি।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।