জুলাই কোনো দুর্ঘটনা নয়, ছিল দীর্ঘ প্রতিরোধের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ

জাতীয়

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক

2026-07-08T16:07:30+06:00
2026-07-08T16:27:46+06:00
বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
জুলাই কোনো দুর্ঘটনা নয়, ছিল দীর্ঘ প্রতিরোধের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম  আপডেট: ০৮.০৭.২০২৬ ৪:২৭ পিএম  (ভিজিট : ১৬)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, দমন-পীড়ন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের বিতর্ক, বিভাজন বা হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক এবং এগুলো আগেই অনুমান করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রেখে বাস্তবতা বিবেচনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


বুধবার (৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ আয়োজিত 'মননে জুলাই' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।


ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত-পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলেও বাংলাদেশে তা ঘটেনি। তার মতে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনও আকস্মিকভাবে ঘটেনি; বরং দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের ধারাবাহিক প্রতিরোধের ফলেই তা সম্ভব হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর মামলা, কারাবাস, গুম, নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও জীবিকা হারানোর মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েও অসংখ্য মানুষ আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। এসব ত্যাগ ও প্রতিরোধই স্বৈরশাসনকে ধীরে ধীরে দুর্বল করেছে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের দুর্ভোগের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, হাজারো মানুষের এই আত্মত্যাগই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। পরবর্তীকালে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা সামনে এলেও গণঅভ্যুত্থানের অভিন্ন দাবি ছিল স্বৈরশাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. শাহ নিসতার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার এমপি, সংসদ সদস্য, মাদারীপুর-৩; সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী) ও সমন্বয়ক, মায়ের ডাক; বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ