নরওয়ের ক্লাবহীন এক গোলরক্ষকের কাছেই হার মানল ব্রাজিল

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

খেলাধুলা

আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল না হলে হয়তো নরওয়ের এই রাতের গল্পই লেখা হতো না। কিন্তু হালান্ড গোল করার

2026-07-06T10:54:07+06:00
2026-07-06T10:54:07+06:00
সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

নরওয়ের ক্লাবহীন এক গোলরক্ষকের কাছেই হার মানল ব্রাজিল
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম   (ভিজিট : ১৫)

আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল না হলে হয়তো নরওয়ের এই রাতের গল্পই লেখা হতো না। কিন্তু হালান্ড গোল করার আগেই যিনি নরওয়েকে ম্যাচে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, তাঁর নাম অরইয়ান নিল্যান্ড। ১২ মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি ঠেকানো থেকে শুরু করে বিরতির আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের উত্তেজনার মধ্যে একের পর এক সেভ দিয়ে নিউজার্সি স্টেডিয়ামে হালান্ড নায়ক হওয়ার মঞ্চটা তৈরি করেছিলেন নরওয়ের ৩৫ বছর বয়সী গোলরক্ষকই।

বিশ্বকাপের আগে এই নিল্যান্ডকেই ঘিরে ছিল সবচেয়ে বেশি সংশয়। কারণ, ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত খেলতে পারছিলেন না তিনি। স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়াও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া বিশ্বকাপের আগে ক্লাবহীন হয়ে পড়েন তিনি। তাই নরওয়ের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হিসেবে ধরা হচ্ছিল গোলবার। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নরওয়ের ভরসা হওয়ার মতো গোলরক্ষক কি আদৌ নিল্যান্ড?

রোববার রাতে সেই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন নিল্যান্ড দিয়েছেন গ্লাভস পরা দুই হাত দিয়েই। ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি নিল্যান্ড। তাঁর কণ্ঠে ছিল দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি, তৃপ্তি আর স্বস্তি।

তিনি বলেন, ‘এটা একেবারেই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দারুণ অনুভূতি। এর পেছনে অনেক কঠোর পরিশ্রম আছে। অসংখ্য কঠিন সময় একা পার করতে হয়েছে। বিশেষ করে আমার পরিবার, আমার স্ত্রী, যে পাহাড়ের মতো আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, আর আমার সন্তানেরা, যারা সব সময় আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আজ এখানে দাঁড়িয়ে এত কিছুর প্রতিদান পাওয়া সত্যিই দারুণ।’

 এভাবেই একের পর এক দারুণ সব সেভ দিয়ে নরওয়েকে বাঁচিয়েছেন নিল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

এভাবেই একের পর এক দারুণ সব সেভ দিয়ে নরওয়েকে বাঁচিয়েছেন নিল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

কোন কঠিন সময়ের কথা বলছেন, তা অবশ্য আর খোলাসা করতে চাননি। তবে ক্লাব ফুটবলেদীর্ঘ সময় বেঞ্চে বসে কাটানো, বারবার নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই আর সমালোচনার মধ্য দিয়েই এখানে পৌঁছেছেন তিনি।

ব্রাজিলের বিপক্ষে তাঁর সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি আসে ম্যাচের ১২ মিনিটে। ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পটকিকে এগিয়ে আসেন ব্রুনো গিমারেস। কিন্তু নিল্যান্ড যেন আগেই জানতেন বল কোন দিকে যাবে। ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন শটটি। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রাজিল কোনো পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়।

পেনাল্টির আগেই নিজের বিশ্বাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন নিল্যান্ড, ‘আমার বেশ আত্মবিশ্বাস ছিল যে পেনাল্টি হলে আমি অন্তত একটি সেভ করতে পারব। আমি একটি ঠেকাতে পেরেছি, আর সেটাই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে আমি খুব খুশি। আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’

সেই প্রস্তুতির পেছনে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেনাল্টি-বিশেষজ্ঞ গেইর ইয়োরদেত। তবে কীভাবে কাজ করেছেন, সেটি গোপনই রাখতে চান নিল্যান্ড,‘সবকিছু আমি বলতে চাই না, কারণ টুর্নামেন্টে আমরা এখনো আছি। আমি বহু বছর ধরে তাঁর সঙ্গে কাজ করছি। আইভরি কোস্ট ম্যাচের আগে যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করেছি, এবারও করেছি। এখানে গোলরক্ষক কোচ, বিশ্লেষক দল—সবাই মিলে আমাকে সাহায্য করেছে। এই কৃতিত্ব সবার।’

হালান্ড দুই গোল করে শিরোনাম দখল করেছেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নরওয়ের এই ঐতিহাসিক জয় শুরু হয়েছিল নিল্যান্ডের সেই এক ঝাঁপ দিয়ে। পরে যখন যোগ করা সময়ে নেইমার দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করলেন, তখনও নিল্যান্ডের মুখে ছিল হাসি। কারণ, তখন ম্যাচ অনেকটাই তাঁর দলের মুঠোয়।

ফুটবলে নায়ক সব সময় গোলদাতারা হন। কিন্তু কখনো কখনো একজন গোলরক্ষকও পুরো গল্পের গতিপথ বদলে দেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়ের গল্পে অরইয়ান নিল্যান্ড ঠিক তেমনই একজন।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ