দেশের ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে সর্বজনীন কিউআর কোড ‘বাংলা কিউআর’। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পুরোদমে বাধ্যতামূলক করার মাত্র প্রথম দুই দিনেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই সময়ে দেশজুড়ে মোট ৭৭ হাজার ১৬৫টি সফল ট্রানজেকশন বা লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ৩০ জুনের পর থেকে দেশের সব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বা পৃথক কিউআর কোড ব্যবহারের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। এখন থেকে সব প্রতিষ্ঠানকে একটি একক প্ল্যাটফর্ম অর্থাৎ ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করতে হবে।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৩০ জুনের পর থেকে পৃথক পৃথক আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শুধু সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ চলবে। এর বাইরে কেউ যদি এখনো আলাদা কিউআর ব্যবহার করেন এবং তা যদি তদন্তে পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘যেসব ব্যাংক বা এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর ব্যবসায়ীদের প্রোভাইড (সরবরাহ) করবে না, তারা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে। আর যারা নিজেদের কিউআর নিয়ে শহর থেকে প্রান্তিকের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, তারা বাজার দখলে এগিয়ে থাকবে।’
এর আগে দেশে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে গতকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করেই ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)–যে কোনো মাধ্যম থেকে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। আগে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর থাকায় খুচরা বিক্রেতাদের ক্যাশ কাউন্টারে অসংখ্য কোড ঝুলিয়ে রাখতে হতো, যা ছিল বেশ ঝামেলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ করতে বাংলা কিউআরকে একটি একীভূত ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চালু করা হয়েছে। এর ফলে শপিং মল, সুপারশপ, ছোট দোকান কিংবা ফুটপাতের ব্যবসায়ী–সবাই একই ধরনের কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। গ্রাহকরাও তার নিজের পছন্দসই ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ (যেমন: বিকাশ, রকেট, নগদ) দিয়ে এই একটি কোড স্ক্যান করেই বিল মেটাতে পারবেন।
বাংলা কিউআরের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর কম খরচ ও সহজ ব্যবহার। যেখানে প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলা কিউআরের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরাও অনায়াসে ক্যাশলেস লেনদেনের আওতায় আসতে পারছেন।
নিরাপত্তার দিক থেকেও এই ব্যবস্থা বেশ কার্যকর। গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি পেমেন্ট সুবিধা থাকায় কার্ড ক্লোনিং বা পিন চুরির মতো ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দেশের ব্যাংক ও এমএফএসগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ আরও মজবুত হবে, ডিজিটাল লেনদেন আরও জনপ্রিয় হবে এবং দেশে একটি টেকসই ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।