প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম (ভিজিট : ১১২)

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে এখন বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের চেয়েও বজ্রপাতে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই মৃত্যুঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ বাস্তবতায় বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, প্রযুক্তি ও জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) 'বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা' শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা এ আহ্বান জানান। অ্যালায়েন্স ফর এমপাওয়ারিং পার্টনারশিপ (এ ফোর ই পি), কোস্ট ফাউন্ডেশন, ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ), ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অবজার্ভিং সিস্টেমস প্রমোশন কাউন্সিল (সিআরওপি-সি) এবং হিউম্যানিটারিয়ান এইড ইন্টারন্যাশনালের (এইচএআই) যৌথ উদ্যোগে এ ওয়েবিনার আয়োজিত হয়। নেপাল, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও চীন থেকে মোট ৭০ জন এতে অংশ নেন।
ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিআরওপি-সির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) সঞ্জয় শ্রীবাস্তব। তিনি বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাতের ঘটনা ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং শক্তিশালী জলবায়ু অভিযোজন নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের আটটি জেলায় একদিনে ১৪ জনের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মানুষের জীবন রক্ষায় সরকার, এনজিও ও স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ এখন জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও নেপালে বজ্রপাতে মৃত্যুহার সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। অথচ কমিউনিটি-ভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচিতে বিষয়টি এখনো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাঁরা আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন এইচএআইয়ের জাহাবিয়া ডাক্তার। আলোচনার সুপারিশ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. শাহিনুর ইসলাম।
ডেল্টা টাইমস্/সিআর/আইইউ