দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষত মাদ্রাসাগুলো, দীর্ঘদিন ধরে নৈতিকতা ও মানবিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি বৃহত্তর সংকটের দিকেও ইঙ্গিত করে।
নেত্রকোনা, জামালপুর ও সুনামগঞ্জে শিশুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ আমাদের সামাজিক নিরাপত্তাবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে অভিভাবকেরা সন্তানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন, সেখানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটায় আস্থার সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
তবে এটি অনস্বীকার্য যে, দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক এখনো সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে পুরো ব্যবস্থাকে দায়ী করা সমীচীন নয়। কিন্তু একইসঙ্গে এ কথাও স্পষ্ট যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর তদারকি, শিক্ষক নিয়োগে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দ্রুততার অভাব রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এসব বিষয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সমাজ ও অভিভাবকদেরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের অপরিহার্য দায়িত্ব।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক, সভাপতি সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ গণপাঠাগার।
ডেল্টা টাইমস/শেখ একেএম জাকারিয়া/সিআর/এমই