জনমনে আস্থার সংকট এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা

রায়হান আহমেদ তপাদার:

মতামত

বিশ্বের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বেশ চাপের মধ্যে আছে। মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি কমেনি, মানুষের আয় চাপে, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি

2026-04-22T09:44:34+06:00
2026-04-22T09:44:34+06:00
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

জনমনে আস্থার সংকট এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা
রায়হান আহমেদ তপাদার:
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৪ এএম   (ভিজিট : ৪৮)

বিশ্বের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বেশ চাপের মধ্যে আছে। মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি কমেনি, মানুষের আয় চাপে, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি দুর্বল। বিনিয়োগও প্রত্যাশামতো বাড়ছে না। এর মধ্যে নতুন করে জ্বালানি ও বৈদেশিক খাতে চাপের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা আরও কঠিন হতে পারে। এ অবস্থায় নতুন সরকারের সামনে মূল প্রশ্ন একটাই-কোন সমস্যাকে আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, ব্যাংক খাত, নাকি জ্বালানি। এসব বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নতুন সরকার অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্ত বাংলাদেশ এমন এক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে শুধু নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বা প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা দিয়ে রাষ্ট্র চালানো আর সম্ভব নয়। এ কারণেই বাংলাদেশের সামনে এখন জরুরি হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রের যোগাযোগ ও তথ্যকাঠামো নতুন করে সাজানো। বহুদিন ধরেই সরকারি যোগাযোগকে এমনভাবে দেখা হয়েছে, যেন এটি মূলত জনসংযোগের একটি আনুষ্ঠানিক কাজ, যা শুধু সমালোচনা বেড়ে গেলে বা সংকট চোখে পড়লে সক্রিয় হয়। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গির সুদূরপ্রসারী প্রভাব অনেক বেশি। কারণ, সরকার যখন আত্মরক্ষামূলক ভঙ্গিতে কথা বলতে শুরু করে, তখন পর্যন্ত জনমত অনেকটাই সরে যায়, জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে, আর আস্থা কমে যেতে শুরু করে। ফলে সংকট শুধু ঘটনাগত থাকে না, আস্থার সংকটেও রূপ নেয়। যেমন-আঞ্চলিক সংঘাত, শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তা ও বাড়তে থাকা গুজবের ভেতর অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে হবে। জ্বালানি, অভিবাসন ও সামষ্টিক অর্থনীতি এসব বিষয়গুলো একসঙ্গে ভাবার কারণ শুধু এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বলেই নয়, বরং এগুলো প্রতিটি কথাই ব্যর্থতার ঝুঁকিতে থাকে। বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন এমন একটি সমন্বিত ও পেশাদার যোগাযোগব্যবস্থা, যা নিম্নোক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। এক. কৌশলগত যোগাযোগ, যা দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা ও রাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করে। দুই. ঝুঁকিগত যোগাযোগ, যা মানুষকে আগেভাগে প্রস্তুত করে এবং তিন, সংকট যোগাযোগ, যা বিপদের মুহূর্তে দ্রুত, স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য বার্তা দেয়। 

এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও আলাদা। প্রতিটির কাজ আলাদা, গুরুত্বও আলাদা। কিন্তু তিনটি একসঙ্গে না থাকলে জ্বালানি, অভিবাসন ও সামষ্টিক অর্থনীতির মতো স্পর্শকাতর খাতগুলো সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। জ্বালানি খাতের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশে জ্বালানির দাম শুধু একটি অর্থনৈতিক বিষয় নয়। এটি একই সঙ্গে মানুষের সংসার, পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন, বাজারদর এবং রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। অতীতে আমরা দেখেছি, জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত অনেক সময় হঠাৎ করে নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া, অনেকটা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের মতো করে তা জানানো হয়েছে। কখনো কখনো সময় নির্বাচনও এমন হয়েছে, যেন গোপনীয়তার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উপায় খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে গোপনীয়তা মানুষকে শান্ত করে না; বরং তা আতঙ্ক বাড়ায়। তখন শুরু হয় বাড়তি কেনাকাটা, মজুতদারি, বাজারে কারসাজি, আর মানুষের মনে এমন ধারণা জন্মায় যে সরকার পরিস্থিতি সামলাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতির চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক অভিঘাতে রূপ নেয়। এখানে আসল সমস্যা শুধু দাম বাড়া নয়। আসল সমস্যা হলো, আগে থেকে এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা থাকে না, যার মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে বড় উদ্দেশ্য কী। যদি বাজারের সঙ্গে সমন্বিত মূল্যব্যবস্থা বাংলাদেশের জ্বালানি নীতির অংশ হতে যাচ্ছে, তাহলে সেই বিষয়টি অনেক আগেই মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা দরকার। মানুষকে প্রচার নয়, ব্যাখ্যা দিতে হয়। তাদের বোঝাতে হয় বৈশ্বিক তেলের দামের ওঠানামা, ভর্তুকির চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখার সক্ষমতার মধ্যে সম্পর্ক কোথায়। সরকার যদি আগে থেকে এই প্রেক্ষাপট না দেয়, তাহলে শূন্যস্থানটি সন্দেহ, গুজব ও অসন্তোষ দিয়ে পূরণ হয়। কিন্তু সরকার যদি তথ্য, যুক্তি ও ধারাবাহিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে, তাহলে একই সিদ্ধান্ত কষ্টদায়ক হলেও তা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

এ কারণেই ঝুঁকি যোগাযোগ এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। দাম বাড়ানোর আগেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়মিতভাবে পরিস্থিতির পূর্বাভাসভিত্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে।আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা দেশের মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা সরাসরি ও সহজ ভাষায় জানাতে হবে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বাড়লে মানুষ যেন শুধু বিদেশি সংবাদমাধ্যম বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে তা না জানতে পারে। তারা যেন নিজেদের সরকারের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনতে পায়, তথ্য, চিত্র ও সাধারণ ভাষাসহ। শুধু তা-ই নয়, ভাষাটিও বদলাতে হবে। বার্তাটি এমন হওয়া উচিত নয় যে মানুষ শুধু কষ্ট সহ্য করবে; বরং সেটি হওয়া উচিত এই অর্থে যে কীভাবে সরবরাহ নিশ্চিত রাখা হবে, বড় ধরনের সংকট ঠেকানো যাবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। কার্যকর যোগাযোগের লক্ষ্য মানুষকে খুশি করা নয়; বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করা। যখন সংকট সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন স্বচ্ছতা সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়ে। মানুষ যদি মনে করে জ্বালানিঘাটতি হতে যাচ্ছে, তাহলে সেই আশঙ্কাই অনেক সময় বাস্তব সংকটকে ত্বরান্বিত করে। এমন পরিস্থিতিতে কোথায় কত জ্বালানি আছে, কোন পাম্পে কী পরিমাণ মজুত আছে, সরবরাহ কীভাবে চলছে-এসব তথ্য যদি রিয়েল টাইমে প্রকাশ করা যায়, তাহলে তা সাধারণ আশ্বাসের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হবে।জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতা আতঙ্ক বাড়ায় আর স্বচ্ছতা সেই আতঙ্ক কমায়। অভিবাসন ও রেমিট্যান্স খাত বাংলাদেশের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা। বিদেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি শুধু তাঁদের পরিবারকে সহায়তা করেন না, তাঁরা দেশের অর্থনীতিকেও টিকিয়ে রাখেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ভোগব্যয় ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কিন্তু বহু সময় দেখা গেছে, অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের যোগাযোগ মূলত নিয়োগ, কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিক প্রশংসার মধ্যেই সীমিত থেকেছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পদ্ধতি আর যথেষ্ট নয়। 

আঞ্চলিক সংঘাত, শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তা ও বাড়তে থাকা গুজবের ভেতর অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে হবে। বাংলাদেশকে প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ আস্থা, সুরক্ষা ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। যদি তাঁদের জাতীয় সম্পদ বলা হয়, তাহলে রাষ্ট্রকে শুধু প্রশাসকের ভাষায় নয়, দায়িত্বশীল অভিভাবকের ভাষাতেও কথা বলতে হবে। প্রবাসীদের এই বিশ্বাস দিতে হবে যে সংকটের সময় সরকার বিকল্প পরিকল্পনা, কূটনৈতিক যোগাযোগ, জরুরি সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকে প্রস্তুত আছে। কিন্তু এই বার্তা শুধু কথায় দিলে হবে না। এর পেছনে দৃশ্যমান ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো সংঘাত শুরু হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে আস্থার বয়ান তৈরি করা যায় না। সেটি আগে থেকেই গড়ে তুলতে হয়। নিয়মিত কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রকাশ্য দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়া এবং সহজ সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থা- সবকিছু মিলিয়েই প্রবাসীদের কাছে এই ধারণা পৌঁছাতে হবে যে রাষ্ট্র তাঁদের নিয়ে আগেভাগেই ভাবছে। যখন কোনো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে, তখন তথ্যের শূন্যস্থান খুব বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সে শূন্যতায় দ্রুত ঢুকে পড়ে দালাল চক্র, গুজব ছড়ানো গোষ্ঠী এবং সুযোগসন্ধানী পক্ষ। তাই অভিবাসন খাতে ঝুঁকি ও সংকট যোগাযোগকে হতে হবে সরাসরি, ডিজিটাল ও অব্যাহত। এতে প্রবাসীরা কম আতঙ্কিত হবেন, কম প্রতারিত হবেন এবং বিশৃঙ্খলভাবে দেশে ফেরার আশঙ্কাও কমবে। এর প্রভাব শুধু তাঁদের পরিবারে নয়, দেশের অর্থনীতিতেও পড়বে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও যোগাযোগের গুরুত্ব একইভাবে গভীর। এ খাতে ব্যবহৃত ভাষা প্রায়ই কারিগরি হয়, কিন্তু এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব অনেক বড়। বাজার শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে চলে না। বাজার চলে প্রত্যাশা, আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। এ জায়গায় অসামঞ্জস্য বিপজ্জনক। সরকার যদি আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছে এক ধরনের বার্তা দেয় আর দেশের মানুষের কাছে আরেক ধরনের ব্যাখ্যা দেয়, তাহলে দ্রুতই বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়। 

একইভাবে নীতিনির্ধারণী বার্তা যদি দেরিতে আসে, অস্পষ্ট হয় বা একে অন্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেন, জল্পনাকারীরা সক্রিয় হন আর সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ে। এ কারণেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এমন একটি যোগাযোগসংস্কৃতি দরকার, যেখানে অপ্রত্যাশিত চমকের জায়গা কম থাকবে। এ কারণেই কৌশলগত, ঝুঁকি ও সংকট-এই তিন স্তরের যোগাযোগকে একসঙ্গে দেখতে হবে। কৌশলগত যোগাযোগ বলে দেয় রাষ্ট্র কোন পথে যেতে চায় এবং কেন। ঝুঁকিগত যোগাযোগ বলে দেয় সামনে কী ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। আর সংকট যোগাযোগ বলে দেয় এখন কী ঘটছে, মানুষকে এখন কী করতে হবে এবং কেন সরকারি বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখা উচিত। বাংলাদেশের জন্য সামনে এগোনোর পথ খুব জটিল নয়, কিন্তু এর জন্য রাজনৈতিক শৃঙ্খলা দরকার। সরকারকে প্রতিক্রিয়ামূলক যোগাযোগ থেকে বেরিয়ে এসে বয়ানভিত্তিক নেতৃত্বে যেতে হবে। প্রয়োজন একটি আন্তমন্ত্রণালয় সংকট সেল, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তে থাকা আতঙ্ক, গুজব ও বিভ্রান্তির সংকেত আগেভাগে ধরতে পারবে। প্রয়োজন এমন একটি সংস্কৃতি, যেখানে কঠিন তথ্য সময়মতো প্রকাশ করা হবে এবং তা সৎভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। একই সঙ্গে দরকার সহমর্মিতাপূর্ণ ভাষা, বিশেষ করে সেসব খাতে, যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্ত মানুষের রান্নাঘর, আয়, প্রবাসজীবন বা সঞ্চয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জ্বালানির দাম সমন্বয় শুধু অর্থনীতির প্রশ্ন নয়, এটি সংসারের প্রশ্ন। অভিবাসনসংক্রান্ত সতর্কতা শুধু প্রশাসনিক নোটিশ নয়, এটি উদ্বিগ্ন পরিবারের কাছে পৌঁছানো একটি বার্তা। ব্যাংক নিয়ে গুজব শুধু বাজারের সমস্যা নয়, এটি জন-আস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। তাই অস্থির তথ্যপ্রবাহের এই যুগে রাষ্ট্র আর জনপরিসরকে ফাঁকা রেখে দিতে পারে না। কারণ, সেই ফাঁকা জায়গা কখনোই দীর্ঘ সময় খালি থাকে না। সেখানে খুব দ্রুত গুজব, ভয় এবং অপপ্রচার জায়গা করে নেয়। আর একবার তা হলে রাষ্ট্র পরিচালনা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। 

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা তাই শুধু রাষ্ট্র কী করছে, তার ওপর নির্ভর করবে না। নির্ভর করবে রাষ্ট্র কতটা সত্যনিষ্ঠ, কতটা বিচক্ষণ এবং কতটা দায়িত্বশীলভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারছে। এখন তো ইরান যুদ্ধ কেবল বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বকেই কঠিন সংকটে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থায় অর্থনীতির কৌশলী ব্যবস্থাপনা, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা, জ্বালানির বর্ধিত দাম, আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময়হারের ওপর চাপ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী থাকা, আপাতত প্রবাসী আয় বাড়লেও মধ্যমেয়াদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা-এসবই সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দেবে। সব মিলিয়ে নতুন সরকার কীভাবে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ভাগ্য।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট, যুক্তরাজ্য।

ডেল্টা টাইমস/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ