প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৬ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২৬ ৪:২৭ পিএম (ভিজিট : ১৬)

রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান সংবিধানের অধীনেই তিনি প্রথম শপথ নিয়েছেন। তাই একই কাঠামোর মধ্যে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়া আইনগতভাবে সাংঘর্ষিক ও অযৌক্তিক।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জার্মানিভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের (বাংলা) এক টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংবিধানের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম এতদূর এগিয়েছে। যদি ৫ আগস্টের পরপরই সরকার নিজেকে ‘বিপ্লবী সরকার’ ঘোষণা করে সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের ঘোষণা দিত, তাহলে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার একটি আইনগত ভিত্তি তৈরি হতো। কিন্তু তা করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়ে গত দেড় বছরের বৈধতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এই সংবিধানের বাইরে গিয়ে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার সুযোগ নেই। “আমি যেহেতু বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে প্রথম শপথ নিয়েছি, তাই দ্বিতীয় শপথ নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
দ্বিতীয়বার শপথ নিলে প্রথম শপথের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, “দ্বিতীয় শপথ নিলে প্রথম শপথটি কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়—এটাই আমার যুক্তি।”
তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি এখন নানা দিক থেকে আলোচনায় এসেছে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং পরবর্তী কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুরুতে এ অনুচ্ছেদের যথাযথ প্রয়োগ হয়নি বলেও অনেকে মত দিচ্ছেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, এ প্রক্রিয়ায় পরামর্শ দেওয়া বিচারকদের কেউ পদত্যাগ করেছেন, কেউ পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন—এ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ফলে কেবল শপথের বিষয় নয়, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটিও সংবিধানসম্মত ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে।
ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই বিষয়গুলো ভবিষ্যতে যে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তবে আইনশাস্ত্রে একটি নীতি আছে—যা হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে। সেই বাস্তবতায় অতীতের ঘটনাকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, “ধরুন ১০ বছর পর কেউ বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করল, তাতে সময়কে পিছিয়ে নেওয়া যাবে না। তাই যা হয়েছে, সেটিকে মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি বিষয়েই প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে।”