প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম (ভিজিট : ২)

ফাইল ছবি
বলিউডের গ্ল্যামার জগতের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক দীর্ঘশ্বাস। রূপালি পর্দার হাসি যে কতটা মেকি হতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে সামনে এলেন অভিনেত্রী সেলিনা। ২০১১ সালে প্রেমের টানে অস্ট্রেলিয়া নিবাসী হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হাগের হাত ধরে ঘর বেঁধেছিলেন তিনি। তবে ১৫ বছরের সেই বৈবাহিক জীবন ছিল কেবলই এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন। স্বামীর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে বিচ্ছেদের মামলা করেছেন এই অভিনেত্রী। দাবি করেছেন ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন সেলিনা। যেখানে উঠে এসেছে বিকৃত যৌনতা, পণের দাবি এবং সীমাহীন অবহেলার করুণ চিত্র।
সেলিনা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ আমাকে হাসতে দেখে ভাববেন না এই পথ চলা সহজ ছিল। আপনারা আমার সেই রাতগুলো দেখেননি, যখন আমি একা কেঁদেছি। দেখেননি আমার শূন্যতায় ভরা দিনগুলো। এই হাসি আসলে অনেক কান্না আর সংগ্রামের ফসল। আমি নিজেকে শান্ত রাখতে শিখেছি, একা লড়াই করতে শিখেছি।’
অভিনেত্রীর দাবি, বিয়ের পরপরই পিটারের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। পণের জন্য সেলিনাকে অনবরত চাপ দিতেন পিটার। ভারতীয় প্রথার দোহাই দিয়ে দামী গয়না ও টাকা দাবি করতেন তিনি। এমনকি সেলিনার পরিবার থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকার উপহার দেওয়ার পরেও মেলেনি রেহাই।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেলিনা জানান তার মধুচন্দ্রিমার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা। ইতালিতে থাকাকালীন ঋতুস্রাবের তীব্র যন্ত্রণায় যখন তিনি কাতরাচ্ছিলেন, তখন ডাক্তার ডাকার পরিবর্তে মেজাজ হারিয়ে সেলিনার দিকে ওয়াইন গ্লাস ছুড়ে মারেন পিটার। এখানেই শেষ নয়, যমজ সন্তান প্রসবের মাত্র তিন সপ্তাহ পর, যখন তিনি সন্তানদের স্তন্যপান করাচ্ছিলেন, সেই অবস্থায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন স্বামী। পরবর্তীতে এক প্রতিবেশীর সহায়তায় সে যাত্রায় রক্ষা পান তিনি।
দীর্ঘ দেড় দশকের নরকযন্ত্রণা কাটিয়ে সেলিনা এখন নিজেকে সারিয়ে তোলার পথে। তিনি বিশ্বাস করেন, কান্না কোনো দুর্বলতা নয় বরং তা মনের মুক্তি। ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি সেরে ওঠা বেছে নিয়েছি, আরও শক্তিশালী হওয়া বেছে নিয়েছি। একদিন সৃষ্টিকর্তা চোখের জল মুছে দেবেনই।’
ডেল্টা টাইমস্/আইইউ